নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই উদ্যোগ আপাতত আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
আদালত ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট নিয়ে নতুন নিয়ম কার্যকরের ওপর নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নতুন বিধিনিষেধ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কার্যকর হওয়ার পথ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।
তবে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট কাভানাও ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের কিছু দিকের পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে এ ধরনের নতুন নিয়ম চালু করা হলে তা ‘খামখেয়ালি ও অযৌক্তিক’ হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে মার্চে নির্বাহী আদেশ জারি করে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম আরও কঠোর করার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। তার দাবি ছিল, নির্বাচনে সম্ভাব্য জালিয়াতি ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই আদেশের বিরুদ্ধে ২৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি মামলা করে। মামলাকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতার ওপর কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের খামে আলাদা বারকোড ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি মেইলের মাধ্যমে ব্যালট পাওয়া ভোটারদের তথ্য একটি অনলাইন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও ছিল।
বোস্টনের ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি গত ৪ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। তার পর্যবেক্ষণ ছিল, নির্বাচনের খুব কাছাকাছি সময়ে এ ধরনের নতুন নিয়ম চালু করা হলে অনেক ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পরে একটি আপিল আদালতও ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে রাজি হয়নি। রোববার আরেক ফেডারেল বিচারক কার্ল নিকোলসও ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে রায় দেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বর মাসে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনের ফলের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে। এরই মধ্যে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে ভোটের ব্যালট বিতরণ শুরু হয়েছে।
ডাকযোগে ভোটের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য দ্বিতীয় বড় ধাক্কা। এর আগে জুনে আদালত রায় দিয়েছিলেন, নির্বাচনের দিন ডাকের সিল মারা থাকলে পরে পৌঁছানো ব্যালটও অঙ্গরাজ্যগুলো গণনা করতে পারবে।
দীর্ঘদিন ধরেই ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন ট্রাম্প। তবে তার এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।