ইরানের প্রতিটি কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমাদের নজর এড়িয়ে ইরানিরা বাথরুমেও যেতে পারে না। তাদের সব পদক্ষেপই আমরা দেখতে পাই।”
সম্প্রতি ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প আরও সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইচ্ছা তখনই ইরানে পুনরায় হামলা চালাতে প্রস্তুত। তবে দুই দেশের মধ্যে সদ্য ঘটে যাওয়া উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই তাঁর বিশ্বাস।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে হওয়া ভয়াবহ হামলা-পাল্টা হামলায় ইরানে ১৮ জন নিহত ও অন্তত ১০৮ জন আহত হয়েছেন। তেহরানের অভিযোগ, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে সামরিক স্থাপনা ছাড়াও একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করেছি এবং হরমুজ প্রণালির ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, সমুদ্রপথে মাইন ফেলার উপযোগী রকেট ও নতুন রাডার ব্যবস্থা তৈরি করছিল ইরান, যা মার্কিন হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে। সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের অর্থনৈতিক অংশীদারদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হুমকির মুখে পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। কুয়েত, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরানের নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান মোহসেন রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলায় তাঁরা এক ‘নতুন কৌশল’ গ্রহণ করেছেন, যা শত্রুর ভিত্তি গুঁড়িয়ে দেবে।