প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে উসকে দেওয়ারও অপচেষ্টা চলছে। সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বিদ্বেষ যাতে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে এখন দেশ পুনর্গঠনের সময় এসেছে।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সহাবস্থানই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। দেশে কাউকে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু হিসেবে দেখার পরিবর্তে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয় মুখ্য বিষয় নয়। রাষ্ট্র ও সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা অন্য কোনো পরিচয় যেন বিভেদ ও বৈষম্যের কারণ না হয়, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। এ লক্ষ্যেই সরকার পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্রীড়া কার্ড এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতাসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তারেক রহমান বলেন, সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সামর্থ্য অনুযায়ী দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিক প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
রাষ্ট্র, সরকার ও নাগরিকদের পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সবার কাঙ্ক্ষিত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে উঠবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের কোনো মানুষ যাতে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিক হিসেবে এ দেশে সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবনযাপন করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার; ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।