সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সমাবেশে অংশ নিতে বাধা দেওয়া, গুলশানের বাসভবনের সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন।
শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতের গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) পুলিশের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৪ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার একটি বাসা থেকে সৈয়দ জগলুল পাশাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ এজাহারভুক্ত ১১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করেন, সড়কে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন এবং খালেদা জিয়াকে নির্ধারিত সমাবেশে যেতে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে খালেদা জিয়া সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে অভিযুক্তরা বালুভর্তি ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করে। এতে তিনি সমাবেশস্থলে যেতে পারেননি। অভিযোগে আরও বলা হয়, হত্যার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পিপার স্প্রে ব্যবহার করা হলে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
ঘটনাটির প্রায় এক দশক পর, ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে, পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দ জগলুল পাশা আরও কয়েকটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এর মধ্যে রয়েছে গুলশান থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলা, যাত্রাবাড়ী থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পারভেজ হত্যা মামলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’ সংক্রান্ত মামলা এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় বিএনপি নেতা আলতাব হোসেন হত্যা মামলা।
এ ছাড়া, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জাল নথি প্রস্তুত ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগেও সৈয়দ জগলুল পাশার নাম আলোচনায় এসেছে।