সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন

গণতান্ত্রিক, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা হয়নি বলেই গণঅভ্যুত্থান: রিজওয়ানা হাসান

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১২৬ Time View

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মন্তব্য করেছেন যে, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক, শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলেই দেশ আজ নতুন সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে।মঙ্গলবার সকালে বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যর্থতার কারণেই গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ আজ একটি নতুন সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশ এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে পুরোনো শাসনব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করা হবে এবং আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে গণতন্ত্রের পথে একটি সুদৃঢ় অগ্রযাত্রা শুরু হবে।

রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, শক্তির ওপর ভর করে প্রতিপক্ষকে দমন করার যে চর্চা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, নতুন বাংলাদেশে সেই সংস্কৃতির কোনো স্থান নেই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যমেই রাজনৈতিক শক্তির প্রমাণ দিতে হবে।

সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় রাষ্ট্র ছিল ভেঙে পড়া অবস্থায়। সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে পুনরায় কার্যকর পথে ফিরিয়ে আনাই ছিল সরকারের মূল কাজ। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার ও কাঠামোগত সংস্কার— এই তিন লক্ষ্য পূরণে সফল হলেই সরকারকে সফল বলা যাবে।

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের স্বাভাবিক প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের সংগঠিত ও গোপন আঘাত মোকাবিলায় অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল প্রচেষ্টা হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা, যেখানে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। তবে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে একটি গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যাদের প্রতিহত করতে সরকার ও সমাজকে একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category