রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

ইরানের ভয়াবহ হামলায় ৮ মার্কিন সামরিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস

  • Update Time : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৩ Time View

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে সেগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি। তাদের ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত জবাব’।

আইআরজিসির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার (স্থানীয় সময়) রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে তাদের নৌবাহিনী ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, এ অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে এবং হামলায় লক্ষ্যবস্তুগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের উপকূলীয় পাঁচটি ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

আইআরজিসি আরও জানায়, ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় পাঁচটি স্থানে হামলা চালায়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি অনধিকারপ্রবেশকারী জাহাজের বিরুদ্ধে আইআরজিসির নৌবাহিনীর পদক্ষেপের প্রতিশোধ নিতেই যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা চালায়। তবে এ ধরনের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সমঝোতা লঙ্ঘনের শামিল বলেও উল্লেখ করেছে ইরানি বাহিনী।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা ও তদারকির দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। সে কারণে ভবিষ্যতে কোনো জাহাজ নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি।

একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে শত্রুপক্ষ যেকোনো অজুহাতে নতুন করে আগ্রাসন চালালে তা তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতেও সীমাবদ্ধ থাকুক না কেন এর জবাব হবে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী। আইআরজিসির দাবি, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করা ইসলামাবাদ সমঝোতার প্রথম ধারা লঙ্ঘনের সমতুল্য এবং এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্থগিত হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, আইআরজিসির এ বিবৃতি এমন সময় প্রকাশ করা হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই হামলার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category