পর্তুগালে অভিবাসন পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্সি বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো। জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত হালনাগাদ জনসংখ্যার তথ্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
লিসবনে এক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, দুই হাজার চব্বিশ সালের গ্রীষ্মের শুরুতে সরকার যদি অভিবাসন-সংক্রান্ত আগ্রহ প্রকাশের প্রক্রিয়া বাতিল এবং অন্যান্য অভিবাসন প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ না করত, তাহলে বর্তমানে অভিবাসী জনগোষ্ঠী দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় বিশ শতাংশে পৌঁছে যেত।
জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালের মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি চৌদ্দ লাখ চব্বিশ হাজার একত্রিশ জন। এর মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা পনেরো লাখ সাতানব্বই হাজার পাঁচশ ঊনচল্লিশ। এর আগে দুই হাজার চব্বিশ সালের হিসাবে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা মাত্র এক লাখ সাতাত্তর হাজার পাঁচশ সাতান্ন জন হিসেবে গণনা করা হয়েছিল।
মন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো বলেন, সরকার জনমত বা ধারণার ভিত্তিতে নয়, বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশ থেকে ব্যাপক জনসংখ্যা চলে যাওয়ার অভিযোগও নাকচ করেন।
এদিকে জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন, কর্মসংস্থান, বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সূচক পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দুই হাজার তেইশ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি পূর্বের ধারণার তুলনায় কম ছিল, তবে দুই হাজার পঁচিশ সালে তা আগের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার একুশ থেকে দুই হাজার পঁচিশ সালের মধ্যে পর্তুগালের জনসংখ্যা বেড়েছে আট লাখ চব্বিশ হাজার নয়শ চৌদ্দ জন। বিশেষ করে দুই হাজার বাইশ, দুই হাজার তেইশ এবং দুই হাজার চব্বিশ সালে উচ্চমাত্রার অভিবাসনের কারণে জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশে জনসংখ্যার বার্ধক্য আরও তীব্র হয়েছে, যদিও কর্মক্ষম বয়সী মানুষের সংখ্যা বাড়ায় এর কিছুটা প্রভাব কমেছে। দুই হাজার পঁচিশ সালে প্রতি দশজন তরুণের বিপরীতে প্রবীণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে উনিশ জন, যা দুই হাজার একুশ সালে ছিল আঠারো জন।