গ্যাস, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকার যেন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন না দেখে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার পাঁচ মাসেও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট দূর করতে পারেনি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। অথচ অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ নেই, আবার গ্রাহকদের বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এসব সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরাও প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসছেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, প্রয়োজন হলে ২০২৬ সালেও গণআন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে রাজনৈতিকভাবে তার মূল্য দিতে হবে।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গত তিন মাসের ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানি, অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিল, বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, ‘গ্যাস না থাকলে বিল নয়’ নীতি চালু, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গ্যাসের সিস্টেম লস ও চুরি বন্ধ এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দখলদারিত্বের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের তা প্রতিহত করতে হবে।
কর্মসূচিতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, জনগণের দাবি আদায়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও চাঁদাবাজিরও সমালোচনা করেন।
এদিকে কর্মসূচি থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান আগামী ১৪ নভেম্বর রাজধানীতে মহাসমাবেশ এবং চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন নেতারা বক্তব্য দেন।