প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে চারজন যুক্ত হতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে তিনজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেওয়ার পরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সরকার ও বিএনপির সূত্রগুলো জানিয়েছে, মন্ত্রী হিসেবে আবদুল মঈন খান, আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরীর শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নতুন তিন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। সম্ভাব্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁদের সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
সাচিং প্রু জেরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমাকে কল করা হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বঙ্গভবনে থাকতে বলা হয়েছে। এটুকুই বলতে পারি।’
সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে ছয়টি গাড়ি চাওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে ছয়টি গাড়ি সেখানে পাঠানো হয়েছে। তবে এসব গাড়ির মধ্যে কয়টি নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাজে ব্যবহার করা হবে, তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলতে পারবে।
মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি সরাসরি কিছু নিশ্চিত করেননি। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
নতুন মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি ওই আসন থেকে নির্বাচিত হন।
আন্দালিব রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর দল নির্বাচনে অংশ নেয়। তিনি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য।
সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়ক। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত হন।
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য।
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৫০ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁরা মন্ত্রিসভার সদস্য নন।
নতুন তিন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৫৪ জনে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রী থাকবেন ২৮ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৫ জন।