অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগের পরিবেশ শক্তিশালী করতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, এডিপি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং অর্থনীতিতে গতি আসবে।
বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।
ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্বল বাস্তবায়নের অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আইএমইডি’র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার কাজ চলছে। একই সঙ্গে Project Director (PD) নিয়োগের নীতিমালার খসড়া নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে একটি সমন্বিত বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
সাকি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই চলমান প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আইন বা নীতিগত পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর বাস্তবায়ন পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
রেট শিডিউল পর্যালোচনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলজিইডি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নিজস্ব রেট শিডিউল অনুসারে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে।
তিনি জানান, খুব শিগগিরই বিদ্যমান রেট শিডিউলগুলো পর্যালোচনা করে সাধারণ ও বিশেষ ধরনের কাজের জন্য নতুন রেট শিডিউল প্রণয়ন করা হবে। এর ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে প্রকল্পের প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময়ক্ষেপণের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি ও অপচয় হয়। তার মতে, সমন্বয়ের ঘাটতি, জবাবদিহির অভাব এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতিই এ ধরনের সমস্যার প্রধান কারণ।