ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, “আমরা হজ্বটাকে সেবা ইবাদত হিসেবে নিয়েছি। এখানে কেউ দুর্নীতি করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো সিন্ডিকেট কাজ করতে পারবে না।” বুধবার সকালে নাটোর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “ধর্ম ব্যবস্থাপনাকে সহজীকরণের জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। অতীতে কিছু দুনম্বরি সিন্ডিকেট হাজীদের জিম্মি করত, সেই প্রবণতাকে আমরা জিরো পয়েন্টে নিয়ে এসেছি।”
হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “গত বছর আমরা হাজিদের কয়েক কোটি টাকা ফেরত দিয়েছি; এবারও পারব। পয়সাও নয়-ছয় করার সুযোগ নেই।”
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক শহিদুল আলম। উপস্থিত ছিলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল হায়াৎ, সিভিল সার্জন ডা. মুক্তাদির আরেফিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
মডেল মসজিদ স্থাপন প্রকল্পের অংশ হিসেবে নাটোর জেলায় তিনটি আধুনিক মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে, নাটোর জেলা মডেল মসজিদ (৪ তলা) নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, নাটোর সদর উপজেলা মডেল মসজিদ (৩ তলা) ব্যয় প্রায় ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, গুরুদাসপুর উপজেলা মডেল মসজিদ (৩ তলা) ব্যয় প্রায় ১৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
এসব মডেল মসজিদে পুরুষ ও নারী নামাজের পৃথক স্থান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা সুবিধা, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, লাইব্রেরি, কনফারেন্স রুম, গেস্ট রুম, আবাসিক ব্যবস্থা এবং পার্কিংসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “আমরা সবাই সচেতনতার সঙ্গে কাজ করছি। হজ ব্যবস্থাপনায় কোনো সিন্ডিকেট, দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ নেই সেবা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।”