শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন
Title :
ফ্রান্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী’র সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থগিত: প্রবাসী মহলে ব্যাপক আলোচনা চীনের বিনিয়োগের পাশাপাশি আমাদেরও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে: মাহদী আমিন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু মধুপুরে কূপে নিহত চারজনের পরিবারকে এক লাখ টাকা সহায়তা ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই চীনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাশিয়া, চীন ও তুরস্ককে আমি যুদ্ধের বাইরে রেখেছি: ট্রাম্প শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের বৈঠক লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে আদ্-দ্বীনের আপিল

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া ডেপুটি স্পিকারের পদ নিতে চায় না জামায়াত

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৯১ Time View

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদ প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত না হলে ওই পদ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছে জামায়াত।

দলটির নেতাদের ভাষ্য, গণভোটে পাওয়া জনসমর্থনের আলোকে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু ও বাস্তবায়নের রূপরেখা স্পষ্ট না হলে কেবল ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়া সমীচীন হবে না। গত শনিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র–এ আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানের পর অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় এই অবস্থানের কথা সরকারপ্রধান ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমনটাই জানিয়েছে বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জানা গেছে, ওই আলোচনায় সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংসদের ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত করতে চায় বিএনপি। আগামী ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের পরপরই ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। বিরোধী দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সরকারি দল তাঁকে সমর্থন দেবে বলেও প্রস্তাব করা হয়।

তবে জবাবে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টিকে তারা বিচ্ছিন্নভাবে দেখছে না। গণভোটের ফল অনুসারে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও এর কার্যক্রম স্পষ্ট হওয়া জরুরি। কেবল একটি পদ গ্রহণ করলে মূল সংস্কার প্রক্রিয়া আড়ালে পড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।

ওই বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ড. মঈন খান ও মির্জা আব্বাসসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ অংশ নেন।

এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের পদটি প্রধান বিরোধী দলকে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করা হয়েছে। জুলাই সনদের রাজনৈতিক সমঝোতাকে সম্মান জানিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, সরকার চায় স্পিকার নির্বাচনের দিনই ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হোক এবং সে জন্য বিরোধী দলকে নাম চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে।

জামায়াতের নেতারা বলছেন, গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাব যেমন সংবিধান সংস্কার পরিষদ, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক কমিশন গঠন এসব বিষয়ে অগ্রগতি না হলে শুধু ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়া দলীয় কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। তাদের মতে, পদ নয়, বরং সংস্কার বাস্তবায়নই এখন অগ্রাধিকার।

ডেপুটি স্পিকার পদটি মন্ত্রী মর্যাদাসম্পন্ন। স্পিকারের মতোই সংসদ সদস্যদের ভোটে এ পদে নির্বাচন হয়। জুলাই সনদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিধান সংবিধানে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। বিএনপি এ প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নিম্ন ও উচ্চকক্ষে দুটি ডেপুটি স্পিকারের কথা উল্লেখ আছে, যার একটি বিরোধী দল থেকে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে জুলাই সনদের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা একটি রিটের শুনানি হয়েছে, যার আদেশ শিগগিরই আসতে পারে। জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট ৬৮ শতাংশ পড়ে। আদেশ অনুযায়ী, সনদের ৪৮টি প্রস্তাবের মধ্যে ৩৮টি বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে ১৮০ কার্যদিবসের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

তবে সংবিধানে সরাসরি উল্লেখ না থাকার যুক্তিতে বিএনপি জোটের এমপিরা এখনো সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। বিপরীতে জামায়াত-এনসিপি জোটের ৭৭ জন এবং ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র এমপি শপথ গ্রহণ করেছেন। বিএনপির অবস্থান, সংবিধানে আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তির পরই তারা এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category