জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণের বিষয়ে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের সব বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত চালিয়ে যদি তাঁর বিরুদ্ধে ১ টাকার দুর্নীতিরও প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেবেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।
সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা চলছিল। এ সময় কার্যপ্রণালি বিধির ২৭৪ বিধি অনুযায়ী ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেওয়ার জন্য দাঁড়ান এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
ডেপুটি স্পিকার তাকে এক মিনিট সময় দিলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কোথাও তিনি এমন কথা বলেননি যে তাঁকে যেন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা না হয়।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর বক্তব্য ছিল- তাঁর কোনো বক্তব্যের কারণে যেন তাঁর নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের সরকারি সুবিধা বা বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত না হন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সংসদে করা কিছু মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, সংসদে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে যে, যারা আগে রিকশায় চলাফেরা করতেন তারা এখন গাড়িতে চলছেন।
এ সময় সরকারদলীয় সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী- ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা তদন্ত পরিচালনা করতে পারে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কারও বিরুদ্ধে ইঙ্গিতপূর্ণ অভিযোগ তোলার পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট তদন্ত করা উচিত।
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তদন্ত করে যদি তাঁর বিরুদ্ধে ১ টাকার দুর্নীতি কিংবা কোনো ধরনের অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিতে প্রস্তুত।
তার ভাষায়, অভিযোগের পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তদন্তই সত্য উদঘাটনের একমাত্র উপায় এবং সে ক্ষেত্রে নিজের বিরুদ্ধে সামান্যতম দুর্নীতির প্রমাণও পাওয়া গেলে তিনি জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন।