শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
Title :
চীনের বিনিয়োগের পাশাপাশি আমাদেরও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে: মাহদী আমিন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু মধুপুরে কূপে নিহত চারজনের পরিবারকে এক লাখ টাকা সহায়তা ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই চীনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাশিয়া, চীন ও তুরস্ককে আমি যুদ্ধের বাইরে রেখেছি: ট্রাম্প শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের বৈঠক লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে আদ্-দ্বীনের আপিল দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নদীতে গোসলে নেমে ৩ নারীর মৃত্যু

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজকে বিশেষ নিরাপত্তা দিচ্ছে ইরান

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৮০ Time View

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয়টি ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে বিশেষ নিরাপত্তায় চলাচলের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ইরানের এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ চেইন সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়লেও ইরান এখন নির্দিষ্ট কিছু দেশকে এই রুট ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, বরং জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেসব দেশকে ইরান বন্ধু মনে করে, তাদের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ পাহারার ব্যবস্থা করছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই বিশেষ তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত। এরই মধ্যে ভারতের দুটি জাহাজ এই সুবিধা নিয়ে প্রণালি পার হয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।

তবে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য পথ খোলা রাখলেও শত্রু রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে ইরান তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশকে ইরান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে বা যারা চলমান যুদ্ধে সরাসরি জড়িত, তাদের কোনো জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে না। বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই জলপথের ওপর ইরান পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়।

শিপিং তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘লয়েডস লিস্ট’ ও বিশ্লেষণ সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ যাতায়াত করলেও চলতি মাসে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি চাপের মুখে ইরান এই জলপথকে তাদের প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ইরানের এই বিশেষ ছাড় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category