শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
Title :
চীনের বিনিয়োগের পাশাপাশি আমাদেরও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে: মাহদী আমিন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু মধুপুরে কূপে নিহত চারজনের পরিবারকে এক লাখ টাকা সহায়তা ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই চীনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাশিয়া, চীন ও তুরস্ককে আমি যুদ্ধের বাইরে রেখেছি: ট্রাম্প শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের বৈঠক লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে আদ্-দ্বীনের আপিল দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নদীতে গোসলে নেমে ৩ নারীর মৃত্যু

তীব্র গ্যাসসংকটে ভারত, বিপাকে সাধারণ মানুষ

  • Update Time : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৭৬ Time View

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছে ভারত। দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিসহ প্রায় প্রতিটি রাজ্যে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে বিতরণ কেন্দ্রগুলোর সামনে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেলেও সময়মতো মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ ভারত তাদের চাহিদার প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ গ্যাস মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে এলএনজি ও এলপিজি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ভারতজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সরবরাহ সংকটের অজুহাতে ভারতের রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। দিল্লিতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিলিন্ডার প্রতি দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। গৃহিণীদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাণিজ্যিক খাতের উদ্যোক্তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারত সরকার গ্যাসের ‘সমতাভিত্তিক বণ্টন’ নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে। নতুন নির্দেশনায় সার কারখানা ও চা শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে চাহিদার মাত্র ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির সিরামিক ও টাইলস শিল্পও।

সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাত। ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এনআরএআই) জানিয়েছে, সরবরাহকারীরা রেস্তোরাঁগুলোতে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বেঙ্গালুরুর হোটেল মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, অনেক ছোট রেস্তোরাঁয় মাত্র ১-২ দিনের গ্যাস মজুত আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দেশজুড়ে অসংখ্য রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে ভারতের জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি দাবি করেছেন, দেশে রান্নার গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই। বিকল্প উৎস ও রুট ব্যবহার করে আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে। তিনি গ্রাহকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category