ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালীভাবে প্রস্তুত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী। দেশটির বড় অংশ এখনো চরম গরমের কবলে থাকায় পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার।
সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, ফ্রান্সের চুয়ান্নটি বিভাগে সর্বোচ্চ স্তরের লাল সতর্কতা এবং পঁয়ত্রিশটি বিভাগে কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধবার আরও কয়েকটি বিভাগে লাল সতর্কতা জারি করা হতে পারে। একই সঙ্গে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পাশাপাশি রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে জেনেভায় আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন সতর্ক করে বলেছে, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এই তাপপ্রবাহ শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইউরোপজুড়ে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন সমাজের দুর্বল জনগোষ্ঠী।
ফ্রান্সের লঁদ অঞ্চলের পিসো শহরে মঙ্গলবার সকালে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা সতের দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বেড়ে চল্লিশ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিকেলে সেখানে তাপমাত্রা তেতাল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে, যা শহরটির বিদ্যমান সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডের কাছাকাছি।
এদিকে সাঁ-ব্রিয়ুক এবং কাঁ শহরে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে কাঁ শহরে ছত্রিশ দশমিক এক ডিগ্রি এবং সাঁ-ব্রিয়ুকে পঁয়ত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
শুধু ফ্রান্স নয়, তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যেও। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সাতত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা জুন মাসের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। শিশুদের সুরক্ষায় ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্কুল মঙ্গলবার আগেভাগে ছুটি দিয়েছে এবং কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহ ইউরোপের জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তাই নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।