ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তা অনমা বড়ুয়ার (সেশন ২০১৪-১৫) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন মায়াকানন মসজিদ গলি এলাকার ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। অনমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে একে ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করা হলেও, তার পরিবার ও সহপাঠীরা এটিকে পরিকল্পিত ‘হত্যা’ বলে দাবি করছেন।
অনমা বড়ুয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও বীমা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ডাচ-বাংলা ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। তার স্বামীও একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের রামুতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবুজবাগ থানায় বর্তমানে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের সহপাঠী ও বন্ধুদের অভিযোগ, অনমার শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে যা আত্মহত্যার দাবির সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। তার প্রবাসী বোন ও দুলাভাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে জানিয়েছেন, এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয়।
অনমার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, সে অত্যন্ত সংগ্রামী, সাহসী এবং হাসিখুশি একজন মানুষ ছিলেন। সহপাঠীদের ভাষায়, “অনমা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও কর্মঠ ছিল। তার মতো একজন মানুষ কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
সবুজবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার ছায়াতদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে অনমার এই রহস্যজনক মৃত্যুতে তার সহপাঠী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।