মাদারীপুর সদর উপজেলার গগনপুর গ্রাম। এ গ্রামে ভ্রাম্যমাণ মধুচাষে এগিয়ে আসছেন বেকার যুবকরা। এতে সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে বিদেশে রফতানির সুযোগও।
৩০ বছর ধরে সরিষা, ধনিয়া, কালিজিরা ক্ষেতের পাশে ভ্রাম্যমাণ মধুচাষ করছেন এ গ্রামের আনোয়ার সরদার। রয়েছে ৪টি খামার ও ২০০টি মৌমাছির বক্স। এখান থেকে মধু সংগ্রহ করে তিনি মধুকোষ নামের গাড়িতে ঘুরে বিক্রি করেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। যা থেকে বছরে আয় করেন ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা।
মধু চাষে বিনিয়োগ বাড়াতে তিনি বলেন, সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিলে চাষিরা উপকৃত হবে। এতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরেও রফতানি করা সম্ভব হবে।
এদিকে স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ হওয়ায় আনোয়ার সরদারের মতো অনেকেই এগিয়ে এসেছেন এই পেশায়। এতে বেকারত্ব দূর হওয়ার পাশাপাশি মৌমাছির পরাগায়নে বেড়েছে সরিষা, ধনিয়া ও কালিজিরার ফলন; উৎপাদন হচ্ছে খাঁটি মধু। আর ভালো মানের মধু পাওয়ায় খুশি ক্রেতারা।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন জানান, ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিদের সবধরনের সহযোগিতা করা হবে। এরইমধ্যে মধুকোষ নামে একটি গাড়িতে ঘুরে ঘুরে মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করার অনুমতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছে।
এছাড়া মৌচাষিদের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন সবসময় প্রস্তুত আছে বলেও জানান তিনি। এমনকি খাঁটি মধু পাওয়ার লক্ষ্যে মৌচাষিদের সহজ শর্তে ঋণও দেয়ারও আশ্বাস দেন রহিমা খাতুন।
আর সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারের পৃষ্টপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া গেলে এ পেশায় আরও বেশি উদ্যোক্তা তৈরি হবে।
ক্ষেতের পাশে স্থাপন করা ১০০ থেকে ১৫০টি বক্সে মাত্র ৬ মাসেই উৎপাদন হয় প্রায় ২০০ মন মধু। যা থেকে এক একজন মৌচাষি খরচ বাদ দিয়ে লাভ করেন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। জেলায় ১০টি খামার ও ২৫০ টিরও বেশি ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি রয়েছে।