সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, এখনো বেশ কয়েকজন নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের। এদিকে, নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জরুরি বিভাগের কর্মীরা।
ব্রাজিলের কয়েকটি রাজ্যে ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে দেশটির স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকর্মীর। এতে ক্রমেই বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যা। মঙ্গলবার সাও পাওলো শহরের বারবা দো সাহি সমুদ্র সৈকতের কাছে নিখোঁজদের উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে বালুর নিচে কারো মরদেহ আছে কিনা, সে খোঁজেই অভিযান চালায় তারা। এ সময় প্রিয় স্বজনকে খুঁজে না পেয়ে অনেকের মুখে শোনা যায় হতাশার কথা।
স্থানীয় একজন বলেন, এটি আসলে খুবই কষ্টকর। এই স্মৃতি কখনোও ভোলার মতো না। আমি আমার মাকে খুঁজছি। জানি না সে মাটির নিচে আছে কি না। আরেকজন বলেন, আমি এবং আমি আমার স্বামী মিলে অনেকেই উদ্ধার করেছি। অনেকেই এখনো মাটিতে চাপা পরে রয়েছেন। তাদের সবাইকে উদ্ধার করতে হবে।
সাও পাওলোর রাজধানী সাও পাওলো সিটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত সাও সেবাস্তিয়ান শহরে রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এই বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। শহরটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধসের আগের ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৬০০ মিলিমিটার বা ২৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে দেখা গেছে, পুরো শহর পানিতে ডুবে গেছে। পাহাড় থেকে আসা কাদার ঢল বাড়িঘরের প্রবেশ করে সেগুলোকে বসবাস অযোগ্য করে তুলেছে। তলিয়ে গেছে গেছে শহরটির সড়ক এবং মহাসড়ক।
এ ঘটনার পর সাও পাওলোর গভর্নর তারসিজিও দে ফ্রেইতাস রাজ্যের পাঁচটি শহরে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। তার সরকার জানিয়েছে, এই বন্যা ও ভূমিধসে ৫৬৬ জন তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন। বন্যার শিকার সাও সেবাস্তিয়ান, উবাতুবা, ইলাবেলা এবং বের্তিওগায় সব ধরনের উৎসব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।