শিক্ষায় সরকারের বাজেট বাড়িয়ে জাতীয় বরাদ্দের ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, বর্তমানে জাতীয় বাজেটের ৩.৪ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চান। শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
মঙ্গলবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায় (কুয়েট) দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কুয়েট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, মেধা বিকাশে জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে একটি করে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিকের ছাত্রীদের সাইকেল দেওয়া হবে।
শিক্ষা খাতে শিক্ষক নিয়োগের জট খুলতে কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন জটিলতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাড়ে চার হাজার শিক্ষকের নিয়োগ আটকে রয়েছে। দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা নিরসন করে শিগগিরই এসব জট ছাড়ানো হবে। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন আটকে থাকা ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন মামলার বিষয়গুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলার ক্ষেত্রে সিভিল বা আর্কিটেকচারের মতো বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিভাগ না খুলে কর্মসংস্থান, ল্যাব সুবিধা ও ইন্ডাস্ট্রির চাহিদার ওপর গুরুত্ব দিতে আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে ইভি কোর্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিকসের মতো যুগের উপযোগী কোর্স চালুর তাগিদ দেন। একই সঙ্গে কুয়েটে এআই কোর্স চালুর আবেদন মঞ্জুরি কমিশনে আটকে থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রকৌশলের এক শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এই বিনিয়োগের সুফল পেতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে গ্র্যাজুয়েটদের ট্র্যাকিং নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রযুক্তির বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার যোগ্য নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য ছাড়াও ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাসান আলী বক্তৃতা করেন।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পতাকা উত্তোলন, প্রীতি সমাবেশ, আনন্দ র্যালি, বৃক্ষরোপণ, ল্যাব উন্মুক্তকরণ ও বিভিন্ন বিভাগের প্রজেক্ট প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিআইটি থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় কুয়েট।