বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সাকিবকে ‘নষ্ট ও পচে যাওয়া মানুষ’ হিসেবে মন্তব্য করার পাশাপাশি তিনি বলেছেন, সাকিব আল হাসান কিংবা শেখ হাসিনা—যাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ থাকুক না কেন, দেশে ফিরলে তাঁরা আইনি ও সাংবিধানিক নিরাপত্তা পাবেন। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিচার প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম, অগ্রগতি ও বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান।
সাকিবকে নিয়ে কড়া মন্তব্য
সাকিব আল হাসানের ক্রিকেটীয় সাফল্যের কথা উল্লেখ করলেও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সাকিব ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, কিন্তু ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে তিনি ‘নষ্ট ও পচে যাওয়া মানুষ’।
শেখ হাসিনার সঙ্গে সাকিবের রাজনৈতিক অবস্থান ও সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, যিনি ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার সঙ্গে আপস বা সমঝোতা করেছেন এবং এখনো সেই অবস্থানে অটল রয়েছেন, তাঁর নীতি-নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
তবে সাকিবের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করলেও তাঁর নাগরিক ও আইনি অধিকার খর্ব করা হবে না বলে জানান তিনি।
সাকিব দেশে ফিরলে কী হবে
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাকিব আল হাসান দেশে ফিরতে চাইলে সরকার তাঁকে নিরাপত্তা দেবে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও অভিযোগের আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগও থাকবে।
তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত কিংবা কোনো গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হলেও তাঁকে আইনের বাইরে রাখা হবে না। আবার আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগও নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রচলিত আইনি কাঠামোর মধ্যেই বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। আগামী ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারেন—এমন আলোচনা ও তাঁর বক্তব্যের প্রসঙ্গও ওঠে।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, তাহলে তাঁকেও সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। একজন নাগরিক হিসেবে তাঁর আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি করা হবে না। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিচার হবে নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ায়। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সবাইকে তা মেনে নিতে হবে।
আইনের চোখে সবাই সমান
সংবাদ সম্মেলনে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়টিও তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সাধারণ নাগরিক হোন কিংবা সাকিব আল হাসান বা শেখ হাসিনার মতো পরিচিত ব্যক্তি হোন—আইনের দৃষ্টিতে সবার জন্য একই বিচারিক প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে।
দেশে ফিরে যে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন এবং আদালতের আশ্রয় নিতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
ফ্যাসিবাদ ও মাফিয়া রাজনীতির পুনরাবৃত্তি নয়
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে ধরনের স্বৈরাচারী বা মাফিয়া শাসনব্যবস্থা ছিল, বাংলাদেশে আর সে ধরনের শাসন ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, দেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট বা মাফিয়া রাজত্বের সুযোগ থাকবে না। গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তাঁর বিচার আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে করা যাবে না। সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই বিচার সম্পন্ন করতে হবে—এটাই সরকারের অবস্থান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
সরকারের বক্তব্যে যা স্পষ্ট
সাকিব আল হাসান রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সমালোচিত হলেও দেশে ফিরলে নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার পাবেন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে এবং আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যে পরিচয়েরই হোন, আইন অনুযায়ী বিচার হবে। দেশে ফেরা প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থন ও আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পাবেন।দেশে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী বা মাফিয়া শাসনব্যবস্থা ফিরতে দেওয়া হবে না।
তথ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্যের পর সাকিব আল হাসান ও শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, তাঁদের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।