মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসে এ তথ্য।
তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দুটো দেশ। তবে ৪৫ সেকেন্ডের ঝাঁকুনির ভয়াবহতায় কাঁদছে বিশ্ব। ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘর-বাড়ি রাস্তাঘাটসহ নানা ধরনের অবকাঠামোগত স্থাপনা। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ, খাবার, পানি, বস্ত্র, তাঁবুর পাশাপাশি নিজেদের উদ্ধারকর্মী পাঠিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
তবে ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়াদের সাহায্যের জন্য অর্থ সংগ্রহের কথা বলে তা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। সংগ্রহ করা এ অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের না দিয়ে তা নিয়ে নিচ্ছে নিজেদের পেপাল ও ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্টে। এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকটক লাইভের মাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণা করা হচ্ছে। লাইভে ধ্বংসযজ্ঞের ছবি, ভিডিও ফুটেজ, উদ্ধার তৎপরতার টিভি রেকর্ডিং ব্যবহার করে ডিজিটাল গিফটের মাধ্যমে দুর্গতদের জন্য অর্থ দান করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি জুড়ে দেয়া হচ্ছে আসুন, তুরস্ককে সাহায্য করি, তুরস্কের জন্য প্রার্থনা এবং ভূমিকম্পের দুর্গতদের জন্য সাহায্য করুন সহ নানা ধরনের আবেগি ক্যাপশন।
এছাড়াও ২০১৮ সালেও টুইটারে পোস্ট করা এক শিশুর ছবি দিয়ে নতুন করে সাহায্যে আবেদন করা হয়। পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্টেরও লিঙ্ক শেয়ার করে এর মাধ্যমে অর্থসাহায্য দান করার আহ্বান জানানো হয়।
এসব পোস্টের সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সির যেসব ওয়ালেটের ঠিকানা দেয়া হয়েছে তার একটি ২০১৮ সালের প্রতারণামূলক টুইটেও ব্যবহার করা হয়েছিল। অন্য ঠিকানাগুলো পোস্ট করা হয়েছে রুশ সোশাল মিডিয়া ওয়েবসাইট ভিকে-তে। প্রতারণাকারীরা অর্থ তোলার জন্য টুইটারে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে এবং তাতে পেপালের লিঙ্কও পোস্ট করে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের কাহারমানমারাস শহরে আঘাত হানা ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দেয় তুরস্ক ও সিরিয়ার বিশাল একটি অংশকে। শক্তিশালী ৭.৮ মাত্রার এ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা এখনও বাড়ছে। সবশেষ পাওয়া খবরে বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত দুই দেশে ৪১ হাজারেরও বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।