পশ্চিমবঙ্গে আগের সরকারে চালু হওয়া কোনো সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর তিনি জানান, আগের সরকারের সময়ে চালু হওয়া সব জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে।
শুভেন্দু বলেন, ৩০ বছর আগের হোক বা ১০ বছর আগের সব সামাজিক প্রকল্পই চালু থাকবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, মৃত ব্যক্তি বা ভারতীয় নাগরিক নন এমন কেউ এসব সুবিধা পাবেন না।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল আগের সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প, যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবশ্রীর মতো প্রকল্প, চালু থাকবে কি না। এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোনো প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না।
সরকার জানায়, সব প্রকল্পের পোর্টাল আপডেট করা হবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে বলেও দাবি করা হয়।
এই ঘোষণার পাশাপাশি নতুন কয়েকটি সামাজিক সহায়তা প্রকল্পের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে-
‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’ প্রকল্প, যেখানে প্রতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে নারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য ২১ হাজার টাকা সহায়তা ও ৬ ধরনের পুষ্টিসামগ্রী।
অবিবাহিত ছাত্রীদের স্নাতকে ভর্তি হওয়ার আগে এককালীন ৫০ হাজার টাকা সহায়তা।
এছাড়া রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কৃষক বীমা যোজনা, পিএম শ্রী, বিশ্বকর্মা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এবং উজ্জ্বলা যোজনা।
এর আগে নির্বাচনী প্রচারে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে, বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে এসব প্রকল্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে বিজেপি নেতৃত্ব, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও ছিলেন, আগেই জানিয়েছিলেন যে কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না।
নতুন ঘোষণার মাধ্যমে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।