রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৪) ঘুরতে নেওয়ার কথা বলে দুই বন্ধু মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী নাহিদুল ইসলাম নাফিজ (২০) নামে এক অভিযুক্ত তরুণকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
নাহিদুল ইসলাম গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার এলেম মণ্ডলের ছেলে। তিনি উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের বিলডাঙ্গা গ্রামে নানাবাড়িতে থেকে সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজে পড়াশোনা করেন।
মামলার অপর আসামি উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের শহীদের দোকান এলাকার কুদ্দুস শেখের ছেলে রায়হান শেখ (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর আন্ধারমানিক এলাকার ওই কিশোরীর সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে প্রায় দুই মাস আগে রায়হান শেখের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
শনিবার ৯ মে রাত ১০টার দিকে কিশোরীকে ঘুরতে নেওয়ার কথা বলে রায়হান ও তার বন্ধু নাহিদুল মোটরসাইকেলে করে কয়েক কিলোমিটার দূরে শহীদের দোকান এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে দুই বন্ধু জোরপূর্বক পালাক্রমে কিশোরীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, অভিযুক্তরা মদ ও ওষুধ সেবন করে তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিতে এলে তিনি চিৎকার দেন। এ সময় রায়হান পালিয়ে গেলেও স্থানীয় লোকজন নাহিদুলকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে।
পরে স্থানীয় মাতব্বর ফরিদ মুন্সীর বাড়িতে তাকে আটকে রেখে সকালে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
আটক নাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, তার বন্ধু রায়হান কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে। পরে রায়হানের ডাকে তিনি ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন, তবে ধর্ষণ করেননি।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে রোববার ১০ মে দুপুরে গোয়ালন্দঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুইজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
গোয়ালন্দঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাশিদুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরীর মা বাদী হয়ে রায়হান ও তার বন্ধু নাহিদুলকে অভিযুক্ত করে রবিবার দুপুরে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেছেন। ভুক্তভোগী কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষা ও আটককৃত তরুণকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।