ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এক সময় যিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন, সেই তিনিই এখন তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ১৯৯৮ সালে দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত হন। রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে সেচ ও জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলান তিনি।
বিশেষ করে নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা তাকে রাজ্য রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান এনে দেয়। সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি তৃণমূলের আস্থাভাজন নেতাদের একজন হয়ে ওঠেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের ভেতরে দূরত্ব বাড়তে থাকে। ২০২০ সালের শেষ দিকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন শুভেন্দু। একই বছরের ১৭ ডিসেম্বর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদও ত্যাগ করেন।
এরপর খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন তিনি। এই দলবদল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। নির্বাচনে তার সাফল্য নিশ্চিত হলে রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শাসনের পর বিকল্প নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে প্রশাসনিক কাঠামো ও নীতিগত অবস্থানে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সেই পরিবর্তনের প্রভাব পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও কিছুটা প্রতিফলিত হতে পারে।
রাজনীতিতে মিত্র-প্রতিপক্ষের অবস্থান যে কত দ্রুত বদলে যেতে পারে, শুভেন্দু-মমতার সম্পর্ক তারই একটি বড় উদাহরণ। একসময় একই দলের হয়ে আন্দোলন ও ক্ষমতার রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা দুই নেতা এখন মুখোমুখি অবস্থানে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনী লড়াই শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে। আর সেই প্রক্রিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।