প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জনগণের অকৃত্রিম আবেগ ও ভালোবাসা দলটিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যে গভীর ভালোবাসা ও আবেগ তৈরি হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে বিএনপিকে আগামীর পথে আরও গতিশীল করবে।”
খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে তার আপসহীন নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি দেশ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি।
সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম এবং দীর্ঘ কারাভোগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শেষদিন পর্যন্ত অসুস্থ থেকেও দেশনেত্রী কখনো মাটি ও মানুষ ছেড়ে অন্য কোথাও যাননি। এই দেশপ্রেমই আজ সাধারণ মানুষকে আলোড়িত করেছে এবং জানাজায় সমবেত হয়ে চোখের পানি ফেলতে বাধ্য করেছে।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করেন যে, মানুষ অন্তত এই আশাটুকু নিয়ে ঘরে ফিরেছে যে, দেশনেত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা গণতন্ত্র রক্ষার কর্তব্য পালন করবেন।
তিনি বিশ্বাস করেন, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিজয়ী হয়ে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে আদর্শ রেখে গেছেন, খালেদা জিয়া সেই পতাকাকে উঁচুতে তুলে ধরেছিলেন। এখন সেই উত্তরাধিকার ও আদর্শ রক্ষায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি প্রতিটি নেতাকর্মীরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।