শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন
Title :
চীনের বিনিয়োগের পাশাপাশি আমাদেরও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে: মাহদী আমিন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু মধুপুরে কূপে নিহত চারজনের পরিবারকে এক লাখ টাকা সহায়তা ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই চীনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাশিয়া, চীন ও তুরস্ককে আমি যুদ্ধের বাইরে রেখেছি: ট্রাম্প শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের বৈঠক লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে আদ্-দ্বীনের আপিল দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নদীতে গোসলে নেমে ৩ নারীর মৃত্যু

অস্ট্রেলিয়াকে নাকাল করে টানা দ্বিতীয় জয় দক্ষিণ আফ্রিকার

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৭১ Time View

পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে এসেই টানা দুই ম্যাচ হেরে বসলো প্যাট কামিন্সের দল। প্রথম ম্যাচে ভারতের পর এবার দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ধরাশায়ী হলো তারা ১৩৪ রানে।

শুরুতে অজি পেসারদের বিপক্ষে ছড়ি ঘুরিয়ে কুইন্টন ডি ককের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে ভর করে ৭ উইকেটে ৩১১ রানের পুঁজি দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অচেনা উইকেটে বেশ সাবধানী শুরু করে তুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ।

‘নামে ভারেও কাটে’ সেই দিন বোধহয় শেষ হতে চললো অস্ট্রেলিয়ার। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে এসেই টানা দুই ম্যাচ হেরে বসলো প্যাট কামিন্সের দল। প্রথম ম্যাচে ভারতের পর এবার দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ধরাশায়ী হলো তারা ১৩৪ রানে।

শুরুতে অজি পেসারদের বিপক্ষে ছড়ি ঘুরিয়ে কুইন্টন ডি ককের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে ভর করে ৭ উইকেটে ৩১১ রানের পুঁজি দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অচেনা উইকেটে বেশ সাবধানী শুরু করে তুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ।

স্মিথ ও লাবুশেন ক্রিজে কিছুক্ষণ কাটিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রথম পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার ১ বল আগেই স্মিথকে ফেরান রাবাদা। এই প্রোটিয়া পেসারের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন স্মিথ। ১২তম ওভারে আবারো উইকেট নেন রাবাদা। এবার এলেক্স ক্যারির বদলে দলে সুযোগ পাওয়া জস ইংলিসকে বোল্ড করেন এই পেসার।

৫৬ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা অবস্থায় অস্ট্রেলিয়া। তাদের সেই অবস্থায় আরো ঘি ঢালেন স্পিনার কেশন মাহারাজ। ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে আউট করেন তিনি। এরপরের ওভারেই রাবাদার বলে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে আউট হন মার্কস স্টইনিস।

কাগিসো রাবাদের একটি ব্যাক অফ লেংথ ডেলিভারে স্টইনিসের লেগ সাইড দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় তিনি গ্লান্স করেন। এতে দেখা যায় স্টইনিসের গ্লাভস হালকা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটকিপার ডি ককের কাছে।

অন ফিল্ড আম্পায়ার শুরুতে আউট না দিলে রিভিউর সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল ঠিকই স্টইনিসের গ্লাভসে লেগেছে কিন্তু যখ সেটি লেগেছে তখন তার আরেক হাত ব্যাটে ধরা ছিল না। টিভি আম্পায়াররা সেটি লক্ষ্য না করেই আউটের সিদ্ধান্ত দেন। ক্রিকেটের আইন বলে, বল যখন গ্লাভসে লেগে ফিল্ডাররা ক্যাচ ধরবে তখন অবশ্যই দুই হাতের কোন না কোন অংশ ব্যাটের সঙ্গে থাকতে হবে। যে কারণে বোঝাই যাচ্ছে স্টইনিসের আউটের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।

১৮ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৭১ রান করা অস্ট্রেলিয়া আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। এরপর অবশ্য স্টার্ক ও লাবুশেন ৭ম উইকেট জুটিতে ৯৮ বলে ৬৯ রানের একটি জুটি গড়ে লজ্জাজনক পরাজয় থেকে অজিদের রক্ষা করেন।

৩৪ তম ওভারে তাদের জুট ভাঙেন মার্কো ইয়ানসেন। ৫১ বলে ২৭ রান করা স্টার্ক উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এর ঠিক পরের ওভারে লাবুশেনও ফিরে যান। কেশব মাহারাজের বল সামনে এগিয়ে কভারের উপর দিয়ে মারতে গিয়ে বাভুমার হাতে ক্যাচ দেন তিনি। শেষ দিকে কামিন্সের ২১ বলে ২২ রান কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে অজিদের।

হ্যাজেলউইডকে আউট করে অজি ইনিংসের সমাপ্তি টানেন প্রোটিয়া স্পিনার শামসি। ৪০.৫ ওভারে সব কটি উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ১৩৪ রানের বিশাল পরাজয়ের ফলে বিশ্বকাপের শুরুতেই দুই ম্যাচে হেরে ব্যাকফুটে পড়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে দুই ম্যাচে দুই জয়ে উড়ন্ত সূচনা করলো দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে রাবাদা ৩টি, মার্কো ইয়ানসেন, মাহারাজ ও শামসি ২টি করে উইকেট নেন। অজিদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন লাবুশেন।

এর আগে লখনৌর অটল বিহারী বাজপেয়ী স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছিলেন অসি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং লাইনআপের অসহায়ত্ব বের করে ছেড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনিং জুটি। কুইন্টন ডি কক আর টেম্বা বাভুমার জুটি ভাঙতেই রীতিমত গলদঘর্ম হতে হয়েছে অসিদের।

১৭.৪ ওভারে জুটিতে শতরান পূর্ণ করেন ডি কক-বাভুমা। অবশেষে ২০তম ওভারে এসে এই জুটিটি ভাঙেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ওপেনিং জুটিতে ধীরগতির ছিলেন বাভুমা। তার উইকেটটিই তুলে নেন ম্যাক্সওয়েল। বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ হন বাভুমা (৫৫ বলে ৩৫)।

এরপর অবশ্য ফন ডার ডুসেনকে ইনিংস বড় করতে দেননি অ্যাডাম জাম্বা। ৩০ বলে ২৬ করে সাজঘরের পথ ধরেন এই ব্যাটার।

তবে ডি কক বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি তুলে নিতে ভুল করেননি। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি ছিল ৮৩ বলে, এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করলেন ৯০ বলে। মারকুটে এই সেঞ্চুরির পর অবশ্য দুর্ভাগ্যজনক আউটে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে ডি কককে। ম্যাক্সওয়েলকে রিভার্স পুল খেলতে গিয়েছিলেন। বল তার গ্লাভসে লেগে নিচে পড়ে ভেঙে যায় স্টাম্প। ১০৬ বলে ৮ চার আর ৫ ছক্কায় ডি ককের ব্যাট থেকে আসে ১০৯ রান।

৪১ বলে ফিফটি করেন এইডেন মার্করাম। ৪৪তম ওভারে তার ৪৪ বলে ৫৬ রানের ঝোড়ো ইনিংসটি থামান প্যাট কামিন্স। স্টাম্প ছেড়ে মারতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দেন মার্করাম। পরের ওভারে জস হ্যাজেলউড তুলে নেন হেনরিখ ক্লাসেনকেও (২৭ বলে ২৯)। টানা দুই ওভারে দুই সেট ব্যাটারকে হারিয়ে বসে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর রানের গতি কিছুটা কমে যায়।শেষদিকে মার্কো জানসেনের ২২ বলে ২৬ আর ডেভিড মিলার ১৩ বলে করেন ১৭ রান। দুই ব্যাটারকেই শেষ ওভারে আউট করেন মিচেল স্টার্ক। রান দেন মাত্র একটি। নাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার পুঁজিটা হয়তো আরেকটু বড় হতো। অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক আর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল নেন দুটি করে উইকেট।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category