এদিকে তিনদিনের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। পবিত্র ঈদ উপলক্ষে এই যুদ্ধবিরতি শুক্রবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়ার কথা। তবে এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরএসএফের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও রাজধানী খার্তুমে উভয় বাহিনীর মধ্যে এখনও লড়াই চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় অধিবাসীরা। রাজধানী বিভিন্ন এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর আগেও দুইপক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানালেও সংঘাত বন্ধ হয়নি। এর জন্য একে অপরকে দায়ী করে বিবৃতিতে দিয়েছে তারা।
আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে কোনো সমঝোতা করবে না বলে জানিয়েছে সুদানের সেনাবাহিনী। বলেছে, তারা শুধু আত্মসমর্পণ মেনে নেবে। এদিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর নিজের প্রথম ভাষণে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহান বলেছেন, ‘সুদানে একটা বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
শুক্রবার (২১ এপ্রিল) সুদানে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যকার লড়াই ছয় দিন ছাড়িয়েছে। গত শনিবার (১৫ এপ্রিল) সুদানের রাজধানী খার্তুমে দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ শুরু হয়। মূলত বেশ কিছুদিন ধরেই দুই বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরপর হঠাৎ করেই তা প্রবল সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
সংঘাতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে রাজধানী খার্তুমবাসী। দুই বাহিনীর হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে প্রাণ হারাচ্ছে তারা। ভয়ে শহর ছাড়ছে অনেকেই। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সুদানে শুরু হওয়ার তীব্র লড়াইয়ের কারণে দেশটি থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিরাপত্তার অভাবে প্রতিবেশী চাদে পালিয়ে গেছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, চাদে যাওয়াদের অধিকাংশই নারী এবং শিশু। এসব শরণার্থীরা সবাই খোলা মাঠে অবস্থান করছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘বিগত কয়েকদিনে সুদানের দারফুর অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষের কারণে আনুমানিক ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষ পালিয়ে প্রতিবেশী দেশ চাদে আশ্রয় নিয়েছে।’