মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
Title :
গাংনীতে ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার, সেনাবাহিনীর সফল অভিযানে ধ্বংস চাঁদপুরে এসএসসিতে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য, শিক্ষার্থীর মৃত্যু ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান হলেন মোহসেন রেজাই বাংলাদেশের মতো দেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: রিজভী নিরাপত্তা ভুয়া দালালের কাছ থেকে কেনা যায় না: ইরান ১৮ বছরের আন্দোলনে গুম-খুন-নির্যাতিতরা পাবেন ভাতা: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী জেনজিদের আন্দোলনে ফের উত্তাল ভারত, পুলিশের লাঠিচার্জ ভঙ্গুর রাষ্ট্র পুনর্গঠনই এখন সরকারের প্রধান কাজ: প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ায় নতুন ৫০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া: জেলেনস্কি সৌদি আরবে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

সহায়তার ৪০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছেন জেলেনস্কি

  • Update Time : শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৩
  • ২৬৬ Time View

জ্বালানি কেনার জন্য সহায়তা হিসেবে পাওয়া প্রায় ৪০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার সঙ্গীরা। মূলত ডিজেল জ্বালানি কেনার জন্য বিদেশি সহায়তার অংশ হিসেবে এই অর্থ ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল। পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী মার্কিন সাংবাদিক সেমুর হার্শের এক রিপোর্টে ভয়াবহ এই দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে।

রুশ সংবাদমাধ্যম তাস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সাংবাদিক সেমুর হার্শ এক রিপোর্টে দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো অঘোষিত কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছেন। এসব অর্থ মূলত জ্বালানি কেনার জন্য ইউক্রেনকে দেয়া হয়েছিল।

বেশ কয়েকটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে হার্শ তার রিপোর্টে বলেছেন, ‘ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ও তার সঙ্গীদের অনেকেই ডিজেল জ্বালানি অর্থ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত মার্কিন ডলার থেকে অগণিত মিলিয়ন অর্থ সরিয়ে ফেলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষকদের অনুমান, গত বছর আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ অন্তত ৪০ কোটি মার্কিন ডলার।’

হার্শের সূত্র অনুসারে, কিয়েভে দুর্নীতির মাত্রা ‘আফগান যুদ্ধের কাছাকাছি, যদিও ইউক্রেন থেকে কোনো পেশাদার অডিট রিপোর্ট আসবে না’। এছাড়া হার্শের ওই রিপোর্টে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভানকে মার্কিন সরকারের চলমান সংকটের জন্য দায়ী করেছে। মূলত হোয়াইট হাউস ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে মতবিরোধের সম্মুখীন হয়েছে মার্কিন সরকার।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ইউক্রেনকে কাড়ি কাড়ি ডলার আর অস্ত্র দিচ্ছে আমেরিকা ও তার ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো। তবে এসব অর্থ কোথায় কিভাবে ব্যয় হচ্ছে তার কোনো হিসাব-নিকাশ প্রকাশ করেনি জেলেনস্কি সরকার।

রাজনৈতিক মানচিত্রে এ যুদ্ধ রাশিয়া ও ইউক্রেনে সীমাবদ্ধ থাকলেও অর্থনৈতিক মানচিত্রে তা সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ ইউক্রেনের হাতে নেই। আমেরিকাসহ তার মিত্ররা যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টার বদলে উল্টো নিজেদের স্বার্থে যুদ্ধকে জিইয়ে রাখছে। ইউক্রেনকে যুদ্ধের অস্ত্র, অর্থ, প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য- সবকিছু দিয়ে মূলত তারাই পেছন থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।

ইউক্রেনকে সামনে রেখে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ইউক্রেনকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ও আধুনিক সমরাস্ত্র দিচ্ছে। গত ফেব্রয়ারিতে কিয়েভ সফরকালে ইউক্রেনের জন্য আগের সাহায্যের অতিরিক্ত আরও প্রায় ৫০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত এক বছরে ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করেছে, তার সাথে এটা নতুন সংযুক্তি।শুধু ২০২২ সালেই মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ (কংগ্রেস) ইউক্রেনের জন্য ১১২ বিলিয়ন ডলার সহায়তার অনুমোদন দেয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা। যুদ্ধে এত খরচের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের। বিদেশি রাষ্ট্রের পেছনে সরকারের এত ব্যয়ে চিন্তিত অনেকেই। তারা জানতে চাইছেন, এই টাকা কোথায় কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং সহায়তা দানের মূল্যই বা কত হবে।যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা ইউক্রেনকে কী পরিমাণ সহায়তা দিয়েছে তার একটি তথ্য তুলে ধরেছে কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি। সংস্থাটি ইউক্রেনকে দেয়া বৈশ্বিক সহায়তার দিকে নজর রাখে। তাদের তথ্যমতে ফেব্রুয়ারিতে বাইডেন যে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন, তার আগেই ইউক্রেনকে আরও প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি সহায়তার মধ্যে ৪৬.৬ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা, যা অন্য যেকোনো দেশের দেওয়া সাহায্যের চেয়ে বেশি। সামরিক সহায়তার অঙ্কে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য (৫.১ বিলিয়ন ডলার); এবং তারপর ইউরোপীয় দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (১০.২ বিলিয়ন ডলার)। এতো গেল শুধু সামরিক সাহায্য, ইউক্রেনকে অন্যান্য ধরনের সহায়তাও দিচ্ছে তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category