শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন
Title :
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৫ দিনের আলটিমেটাম রাতে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবারও ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্য সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের সূচিতে ১০ কর্মসূচি: মাহদী আমিন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী মক্কা হামলার অভিযোগ ঘিরে হুতিদের ‘সন্ত্রাসী’ বললেন সৌদি বাদশাহ জাতিসংঘের ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয়: তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক

‘মেইড ইন মেক্সিকো’ মানেই কি ‘মেইড বাই চায়না’?

  • Update Time : সোমবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৭০ Time View

মেক্সিকোতে চীনা বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ার ফলে ‘মেইড ইন মেক্সিকো’ পণ্যগুলোর উৎপত্তি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মেক্সিকো চীনের বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসে। সস্তা শ্রম, উন্নত অবকাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মেক্সিকোকে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখে।

চীনের বিনিয়োগ ও বিতর্ক

চীনা কোম্পানিগুলো মেক্সিকোতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছে। বিশেষত বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) এবং অটো-পার্টস খাতে চীনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালে মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে এই রপ্তানির মধ্যে চীনা উপাদানের অংশও বেড়ে গেছে, যা ২০০২ সালে ৫ শতাংশ থেকে ২০২০ সালে ২১ শতাংশে পৌঁছেছে।যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, চীনা কোম্পানিগুলো মেক্সিকোকে একটি ‘শুল্কমুক্ত প্রবেশদ্বার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। যদিও ‘মেইড ইন মেক্সিকো’ পণ্যে চীনা উপাদান ব্যবহারে সব ধরনের নিয়মনীতি মেনে চলার দাবি করা হয়। তবু মেক্সিকোতে চীনের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি ও চ্যালেঞ্জ

চীনের ইভি শিল্প বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র চীনা ইভি আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, তবে মেক্সিকোতে নির্মিত চীনা গাড়ি এ শুল্কের আওতায় পড়ে না। অবশ্য চীনা কোম্পানিগুলোর মেক্সিকোতে ইভি কারখানা গড়ার প্রকল্পগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

চীনা কোম্পানিগুলো সরাসরি গাড়ি তৈরির চেয়ে সরঞ্জাম ও উপাদান উৎপাদনে বেশি জোর দিচ্ছে। এতে মেক্সিকোতে চীনের ভূমিকা বাড়লেও দেশটির স্থানীয় শিল্পে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

মেক্সিকোর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ

মেক্সিকো চীনের বিকল্প সরবরাহ চেইন গড়তে চায়। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর ভবিষ্যৎ ২০২৬ সালে পর্যালোচনা হবে। মেক্সিকো এখন চীনা বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে চায়।তবে মেক্সিকো যদি চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে এটি নিজস্ব শিল্পের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মার্কিন ও মেক্সিকান কর্মকর্তারা একমত যে, মেক্সিকোকে চীনের বিকল্প উৎস হিসেবে গড়ে তোলাই উভয়ের জন্য মঙ্গলজনক।

এখন পর্যন্ত ‘মেইড ইন মেক্সিকো’ মানেই ‘মেইড বাই চায়না’ নয়। তবে চীনা উপাদানের ব্যবহার মেক্সিকোর রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে মেক্সিকো কি চীনের প্রভাব কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category