চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুসরণ করাসহ পোশাক কারখানা মালিকদের ৭টি নির্দেশনা দিয়েছে নিট শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।রোববার (১২ নভেম্বর) এক সার্কুলারে এসব নির্দেশনা দিয়েছে সংগঠনটি।এতে বলা হয়েছে, দেশের প্রধানতম রফতানি খাত নিট শিল্প বর্তমানে একটি ক্রান্তিলগ্ন অতিক্রম করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ডামাডোলের কারণে অর্থনৈতিক সংকট প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচকভাবে পড়ছে এবং স্বাভাবিকভাবেই দেশের প্রধানতম রফতানি খাত নিট শিল্প খাতে এর ঋণাত্মক প্রবাহ আমরা এরই মধ্যে লক্ষ করতে শুরু করেছি।
এর মধ্যেই ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ঘোষিত হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই মজুরি কাঠামো কার্যকর করা কষ্টকর হলেও বাস্তবায়ন করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বা মহল এই সুযোগে এই শিল্পটিকে ধ্বংস করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছে। মনে রাখতে হবে, দেশের স্বার্থে, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এবং শ্রমিকদের স্বার্থে এই শিল্পকে আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। এ জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশলমাফিক নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান স্বাক্ষরিত সার্কুলারে বিকেএমইএ সদস্যদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, বিকেএমইএ আপনাদের স্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে এ বিষয়ে সমন্বয় সাধন করে চলেছে। তাই আপনার প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে সামনের দিনগুলোতে বিকেএমইএর ৭ নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সহযোগিতা কামনা করছে। সেগুলো হচ্ছে:
(১) আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি শ্রমিকরাই এই শিল্পের প্রাণ। তাই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। কিন্তু একইভাবে মালিকপক্ষের দিকটিও বিবেচনায় নিয়ে আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে। আপনার কারখানায় যেন কোনো অবস্থায়ই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখুন।
(২) বর্তমান রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে জরুরি প্রয়োজন না হলে আপনার কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ রাখুন এবং একই সঙ্গে সামগ্রিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার গেটে যাতে ‘নিয়োগ বন্ধ’ নোটিশটি দৃশ্যমান হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিন। যদি নতুন নিয়োগের প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে শ্রমিকের সব তথ্য যাচাই করেই নিয়োগ দেবেন। প্রয়োজনে ওয়ার্কার্স ডেটাবেজসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।
(৩) বিকেএমইএর লিখিত অনুমোদন ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে আপনার কারখানার তথ্য বা উপাত্ত দেয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ, আপনার প্রদত্ত তথ্য কে বা কীভাবে ব্যবহার করবে? তার নিশ্চয়তা না পেলে, তা আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে। এ ক্ষেত্রে আপনার কারখানার কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে অবহিত করুন।
(৪) আপনার কারখানার ওয়ার্কার ডেটাবেজ আবশ্যিকভাবে হালনাগাদ করতে হবে। কারণ, শ্রমিকদের যে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া বা পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যাদি অত্যাবশ্যকীয়।
৫) কারখানার সব ধরনের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনিক তদারকি বাড়াতে হবে এবং একই সঙ্গে সিসি ক্যামেরার ফুটেজগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখুন। যাতে যে কোনো ধরনের আশঙ্কার আভাস পাওয়া মাত্রই সময়োপযোগী ব্যবস্থা নেয়া যায়। তাই সিসি টিভির ফুটেজ নিরাপদে সংরক্ষণে রাখুন।
(৬) নিয়মিতভাবে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনাসহ তাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো শোনা ও তা লিপিবদ্ধ করা এবং কোনো সমস্যা চিহ্নিত হলে তা দ্রুত সমাধান করার ব্যবস্থা নিন।
(৭) যেসব কারখানার শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে কাজ করা থেকে বিরত থাকবে বা কারখানা ছেড়ে বেরিয়ে যাবে, সেসব কারখানার মালিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা সাপেক্ষে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩(১) বিধান মোতাবেক কারখানা বন্ধ করে দিতে পারেন।
এ ছাড়া এসব নির্দেশনার বিষয়ে কারখানা মালিকদের সহযোগিতা কামনা করেছে বিকেএমইএ।