পশ্চিমাদের উদ্দেশ করে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন আর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করেন না তারা। চাইলে পশ্চিমারা রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে পশ্চিমারা মোট ১১টি প্যাকেজের মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর সহস্রাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পশ্চিমাদের উদ্দেশ্য ছিল রুশ অর্থনীতিকে কোনঠাসা করা, যাতে কোনোভাবে পুতিন প্রশাসন ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে না পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানিয়েছে, বছরের পর বছর ধরে যদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যান, তাহলে রাশিয়ার ওপর বছরের পর বছর ধরে চলবে নিষেধাজ্ঞা।
তবে শুরু থেকেই পশ্চিমাদের এসব নিষেধাজ্ঞা এবং রোজকার হুমকি-ধমকিকে আমলে নেয়নি পুতিন প্রশাসন। সম্প্রতি ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেন, বহুদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার কবলে রুশ অর্থনীতি। প্রায় এক দশক ধরে পশ্চিমারা নানা সময়ে রাশিয়ার ওপর নানামুখী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতদিনে এসব নিষেধাজ্ঞার অভ্যাস হয়ে গেছে রাশিয়ার। এখন আর রুশ নাগরিকরা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করেন না।
পেশকভ বলেন, ‘চাইলে পশ্চিমারা আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। পশ্চিমারা চেয়েছিল রুশ অর্থনীতিকে আঘাত করতে। উল্টো এত এত নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাশিয়া পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো শিখে গেছে। পরনির্ভরশীলতা থেকে বের হয়ে বেড়েছে দেশীয় উৎপাদন ও সমৃদ্ধ হয়েছে অর্থনীতি।’
নরওয়েভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোরিস্ক সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলেছে, যে উদ্দেশ্যে পশ্চিমারা রাশিয়ার ওপর ম্যারাথন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। গত বছর রাশিয়ার আমদানি বাণিজ্যের ওপর ৮ বিলিয়ন ডলার অর্থমূল্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে টলাতে পারেনি পশ্চিমারা।
দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে পশ্চিমারা পুতিনের দখলদারিত্বমূলক অন্যায় লিপ্সা বলে অ্যাখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল ইউরোপ। যুদ্ধই ছিল সেটির উচিত জবাব।