নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একই গ্রামের উভয় পক্ষের নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, পোড়াবাড়ি গ্রামের পিয়াস (১৯), পিতামৃত নয়ন মিয়া, মোশারফ হোসেন (৩০), পিতা আ. ছালাম, তরিকুল ইসলাম (৩০), পিতা হযরত আলী, ইমন (২২), পিতা অলিউল্লাহ, আরিফুল (২৬), পিতা হযরত আলী, রবিউল হাসান (১২), পিতা সোহেল মিয়া, আব্দুল্লাহ (৩৫), পিতা তোতা মিয়া, আল আমীন (৩৬), পিতা ফৌজদার মিয়া, শরিফ (২০), পিতা তাজু মিয়া, নিজাম উদ্দিন (৪৫), পিতা আ: মজিদ, শহিদ মিয়া (৬০), পিতা হোসেন মিয়া, সুরাইয়া বেগম (৬৫), স্বামী হযরত আলী, সুফিয়া বেগম, স্বামী আ: রহমান, রিপা আক্তার (২৫), অভিভাবক আ: হেকিম, দীন ইসলাম (৩০), অভিভাবক আব্দুর রহিম, নূরুল ইসলাম (৩০), পিতা আব্দুর রহমান, বুলবুল মিয়া (৫০), পিতা শহর আলী, খাদিজা আক্তার (৮০), স্বামী মফিজ উদ্দিন, সুমন মিয়া (১৫), পিতা শান্ত মিয়া, সাফায়েত (৩৫), পিতা হাবিব, রোকেল (৩৫), পিতা আ: মজিদ, রোমান (১৮), পিতা বিল্লাল মেম্বার।
আহতদের মধ্যে মারাত্নক আহত ৯ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তারা হলেন, আব্দুল্লাহ, মোশারফ হোসেন, শরিফ মিয়া, তরিকুল, রিপা আক্তার, খাদিজা বেগম, দীন ইসলাম, সুমন মিয়া ও শহিদ মিয়া। বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি গ্রামে।
আহত পিয়াস মিয়া ও তার মা শিউলী আক্তার জানান, পোড়াবাড়ি গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে সোহেল মিয়া বহুদিন আগে তমজিদ মিয়ার কাছ থেকে এক খণ্ড জমি ক্রয় করেন। একই জমি প্রতিবেশী হযরত আলীর ছেলে তরিকুল ও নুরুল্লাহও কিনতে চেয়েছিলেন। তখন থেকেই বিরোধ শুরু হয়।
গত শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সোহেল মিয়া হালচাষের জন্য ভাড়া করা ট্রাক্টর নিয়ে ক্ষেতে যাওয়ার সময় বাঁধা দেন নুরুল্লাহ মিয়া। পরদিন রোববার (২৩ নভেম্বর) সকাল ৭ টার দিকে সোহেল ক্ষেতে যাওয়ার চেষ্টা করলে নুরুল্লাহ রামদাও নিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। পরে তার চিৎকারে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের ২৫-২৬ জন আহত হন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।