ধেয়ে আসছে আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ আরও শক্তি জুগিয়ে উপকূলের দিকে । এরই মধ্যে ভারতের পশ্চিম উপকূলে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ঝড়ো হাওয়ার দাপটে উত্তাল হয়ে উঠেছে সমুদ্র। এ অবস্থায় ‘বিপর্যয়’ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি কেমন, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।সোমবার (১২ জুন) বৈঠকে দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রুখতে প্রশাসনের পক্ষে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা বিস্তারিত প্রধানমন্ত্রীকে জানান সরকারি কর্মকর্তারা।
ভারতের আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিন দেশটির গুজরাটের কুচ, জামনগরসহ বেশ কয়েকটি জেলা ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। এ সময় ভারি বৃষ্টিসহ প্রবল ঝড় বয়ে যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রোববার (১১ জুন) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ে ভারি বৃষ্টির পাশাপাশি তীব্র ঝড়ো হওয়া বয়ে যায়। এতে মুম্বাই বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়। বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিলও হয়। প্রবল বৃষ্টির কারণে দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে বিমান ওঠানামা ব্যাহত হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বহু যাত্রী।
এ ছাড়া মহারাষ্ট্র, কেরালা, কর্ণাটক ও লাক্ষাদ্বীপের জেলেদের এ সময় সাগরে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করেছে আবহাওয়া দফতর। রাজ্য সরকারগুলোকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়। সিন্ধু প্রদেশ থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় জনগণকে সমুদ্রে যেতে বাধা দেয়ার জন্য সোমবার (১২ জুন) করাচির সিভিউ রোডটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ১৫ জুন দক্ষিণ-পূর্ব সিন্ধুর কেটি বন্দর এবং ভারতীয় গুজরাট উপকূলের ওপর দিয়ে ‘অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে আঘাত হানতে পারে ‘বিপর্যয়’। আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।