শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আছে আর ৩ বছর

  • Update Time : রবিবার, ৫ মার্চ, ২০২৩
  • ৩১৯ Time View

মাত্র তিন বছর পর শেষ হয়ে যাবে গঙ্গার ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর ইতিবাচক মনোভাবের ফল এই ত্রিশ বছরমেয়াদি ঐতিহাসিক গঙ্গা পানিচুক্তি।

১৯৯৬ সালে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী সেই সময়ের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গঙ্গার পানি প্রবাহের গতি মাপা হচ্ছিল। চুক্তি নবায়নের সময় পানির সঠিক প্রবাহ জানতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৩ মার্চ) কলকাতায় যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস ড. মোহাম্মদ আব্দুল হোসেন এ কথা জানিয়েছেন।

চুক্তিতে বলা হয়, গঙ্গার পানি যে ব্যারেজ দিয়ে ভাগ হবে সেই ফারাক্কায় গঙ্গার পানির নাব্য যদি ৭০ হাজার কিউসেকের কম হয়, তবে বাংলাদেশ ও ভারত মোট পানির ৫০ শতাংশ হারে ভাগ করবে। তবে নাব্য ৭৫ হাজার কিউসেক হলে বাংলাদেশ পাবে ৩৫ হাজার কিউসেক এবং ভারত পাবে অবশিষ্ট। আর নাব্য ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক, বাকি পুরো পানি পাবে বাংলাদেশ।

এর মধ্যে শেষ শর্ত অনুযায়ী এখন পানি পাচ্ছে বাংলাদেশ। নদী বিশেষজ্ঞরা এই ভাগকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।

১ জানুয়ারি থেকে ৩১-মে পর্যন্ত গঙ্গার পানি প্রবাহের নিশ্চিত ভাগ পাচ্ছে কি-না এর জন্য গঠন করা হয় যৌথ নদী কমিশন। সেই কমিশন নিয়ম করে বিজ্ঞানসম্মতভাবে পানির ভাগ নিশ্চিত করে। বছরে তিনবার বৈঠকে মিলিত হয়ে চুক্তি অনুযায়ী পানি দেয়া-নেয়া হচ্ছে কি-না সেটাও দেখছেন সংশ্লিষ্ট কমিশনের সদস্যরা।

বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন প্রতিনিধি দলের সদস্য ড. মোহাম্মদ আব্দুল হোসেন বলেন, বর্তমান বছরে পহেলা জানুয়ারি থেকে যৌথ মেজারমেন্ট শুরু হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসের পানি প্রবাহের তথ্য আমরা পেয়েছি। প্রতি ১০ দিন পর পর পানির প্রবাহ পরিমাপ করা হয়। সেই হিসেবে গত দুই মাসের ৬ টি পানি প্রবাহের হিসেব অনুযায়ী পানি প্রবাহ সন্তোষজনক।

এদিকে গত কয়েক বছর ধরে তিস্তার পানির হিস্যা নিয়ে দুই দেশের কূটনীতিক থেকে রাজনৈতিক- সব স্তরে চলে ব্যাপক আলোচনা।

গঙ্গার পানির সঠিক হিস্যা পাওয়ায় খুশি হলেও আব্দুল হোসেন মনে করেন, গঙ্গার পানি প্রবাহেও বাংলাদেশ বঞ্চিত হচ্ছে কি-না তা দেখতে চুক্তি নবায়নের সময় উন্নত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে। কেননা এখন চুক্তির পানি প্রবাহ মাপা হচ্ছে অনেকটা ম্যানুয়াল (পুরানো) পদ্ধতিতে।

আব্দুল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ গেলো দুই মাসে গঙ্গার পানি পেয়েছে আশানুরূপ। বিগত ৪০ বছরের ইতিহাসের চেয়েও এখন গঙ্গার পানি প্রবাহ ভালো। ফলে চুক্তি অনুযায়ী চলতি শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশে যে পানি ঢুকবে তাতে দেশের ইকো সিস্টেম এবং সেচ, সেচ বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সব কিছুতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দেশের অর্থনীতিতেও চলমান এ পানি প্রবাহ ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলেও জানান বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন প্রতিনিধি দলের সদস্য ড. মোহাম্মদ আব্দুল হোসেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category