সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন

সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • Update Time : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ Time View

সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিয়ে একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবরেই চুক্তি নিয়ে আলোচনার কাজ শেষ হয়েছিল। কিন্তু ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে সই করতে দেরি করছেন। একই সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- উভয় দলের সদস্যদের সম্ভাব্য বিরোধিতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে ধরা হয়। যদিও বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়, অধিকাংশ দেশ নিজস্বভাবে এটি উৎপাদন না করে বিদেশ থেকে সংগ্রহ করে। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই প্রযুক্তি সৌদি আরবের হাতে গেলে ভবিষ্যতে তা পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতায় রূপ নিতে পারে।

এ প্রসঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আগের একটি বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি একসময় বলেছিলেন, ইরান যদি পরমাণু বোমা তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে।

চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো, এতে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর কঠোর তদারকির শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে সংস্থাটি প্রয়োজন মনে করলেই সৌদি আরবের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পাবে না। পুরো বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কঠোর নিরাপত্তা শর্ত মেনে চুক্তি করেছিল। সেই মডেলটি ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে পরিচিত, কারণ সেখানে আন্তর্জাতিক নজরদারির পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সৌদি আরবের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ ভবিষ্যতে দেশটি চাইলে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে।

অন্যদিকে, চুক্তির সমর্থকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্পের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সহযোগিতা না করে, তাহলে সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে একই ধরনের প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারে।

তবে সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড শিথিল করে এ ধরনের চুক্তি বাস্তবায়ন করে, তাহলে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

সূত্র: সিএনএন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category