রাজধানীর পল্লবীতে সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের সদস্য মো. আতিক ওরফে চোরা আতিককে (২২) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৪ (এসআরবি-৪)। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া পৃথক অভিযানে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানাকে (৩৮) এবং ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে এসআরবি-৪।
বুধবার রাজধানীর পাইকপাড়ায় এসআরবি-৪-এর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে এসব তথ্য জানানো হয়।
এসআরবি-৪ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে পল্লবীর সবুজবাংলা এলাকায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা টিভির প্রতিবেদক প্রান্ত পারভেজের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁর বাসায় এসে তাঁকে খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে তাঁরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনি পল্লবী থানায় মামলা করেন।
এসআরবি-৪-এর ভাষ্য, ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিন (২২) নামে একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাঁর পল্লবীর তালতলা বস্তির বাসায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাঁর মা মোছা. ডলি বেগমকে (৪৫) ৭৪৫টি ইয়াবা বড়ি ও ১৫ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়াসহ গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে এসআরবি-৪। তবে অভিযানের সময় রবিন পালিয়ে যান।
এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পল্লবীর মোহাম্মদিয়া মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. আতিক ওরফে চোরা আতিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-৪ বলছে, আতিক ‘ভইরা-দে গ্রুপের’ অন্যতম সক্রিয় সদস্য।
প্রেস রিলিজে বলা হয়, আতিককে জিজ্ঞাসাবাদে রবিন, ইব্রাহিম, ‘শুটার শাহিন’ ও আল আমিনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। পরে পল্লবীর সেকশন-১১, এভিনিউ-৫ এলাকায় অভিযান চালালে এসআরবি-৪-এর উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা পালিয়ে যান। পরে ওই এলাকার একটি টিনের ঘরের পেছন থেকে একটি খালি ম্যাগাজিন, ৯ রাউন্ড গুলি ও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-৪ আরও জানায়, একই রাতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য মো. নিলয় সুজনকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ছয়টি মুঠোফোন, দুটি ধারালো রামদা ও এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির।
গ্রেপ্তার আতিককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসআরবি-৪ বলেছে, মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘ভইরা-দে’ বা ‘আশিক গ্রুপের’ বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংবাদ প্রচার করা হয়েছিল। ওই সংবাদ প্রচারের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রুপটির মূলহোতা আশিকের নির্দেশে তাঁর সহযোগীরা সাংবাদিকের বাসায় হামলা চালায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
এসআরবি-৪-এর দাবি, আতিকের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
কারাগার থেকে পালানো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
পৃথক অভিযানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার আজিমপুর এলাকা থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানাকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৪। তিনি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে ছিলেন।
এসআরবি-৪ জানায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কারাগার ভেঙে এবং কারারক্ষীদের আহত করে পালিয়ে যান সোহেল রানা। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসআরবি-৪ জানায়, সোহেল রানা ও মো. জহির একই এলাকার প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী মো. সুলতানের সঙ্গে জহিরের বিরোধ ছিল। পরে সুলতানের পরিকল্পনায় সোহেল রানাসহ কয়েকজন জহিরকে হেমায়েতপুরে ঘুরতে নিয়ে যান। বাড়ি ফেরার পথে জহিরকে হত্যা করে তাঁর লাশ ছয় টুকরা করে নদীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানায় এসআরবি-৪।
এ ঘটনায় জহিরের বাবা সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে ২০১৯ সালে আদালত সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ড দেন বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআরবি-৪ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।