রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

কারাগার থেকে ভোট দিলেন সালমান-পলকরা

  • Update Time : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭৩ Time View

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেলেন বাংলাদেশের কারাবন্দিরা। এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন কারাগারে থাকা সাবেক সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ অর্ধশত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তালিকায় রয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের মতো হাই প্রোফাইল বন্দিরা।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোট ৫ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৭ জন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। আজ শনিবার শেষ দিনে বাকি ১ হাজার ৯২৩ জন বন্দির ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট না দিলে তাঁদের ভোটাধিকার বাতিল হয়ে যাবে বলে কারা সূত্র নিশ্চিত করেছে।

কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ৩৯ জন হাই প্রোফাইল বা উচ্চপদস্থ বন্দি ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও ১১ জন সাবেক সচিব এবং পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ঢাকা বিভাগকে দুটি সাংগঠনিক ভাগে ভাগ করে এই পুরো ভোট গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কারা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি নিবন্ধিত বন্দিকে একটি প্যাকেটে তিনটি করে খাম দেওয়া হচ্ছে। এই প্যাকেটে ব্যালট পেপারের পাশাপাশি জুলাই সনদ সংক্রান্ত গণভোটের জন্য ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ সম্বলিত পৃথক ব্যালট পেপারও থাকছে। বন্দিরা পছন্দমতো ভোট দিয়ে খামগুলো বন্ধ করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিচ্ছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ ডাক বিভাগের মাধ্যমে এক্সপ্রেস বা দ্রুততম ব্যবস্থায় এই খামগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটের সঙ্গে এই পোস্টাল ব্যালটগুলো যুক্ত করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে। দেশের ৭৫টি কারাগারে থাকা ৮৬ হাজার বন্দির মধ্যে ৫ হাজার ৯৯০ জন অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছিলেন।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বন্দিরা তাঁদের ভোট প্রদান করেছেন। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। তবে ত্রুটিপূর্ণ আবেদনের কারণে ৩৮০ জন বন্দির আবেদন বাতিল করা হয়।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। প্রথমবারের মতো কারাবন্দিদের এই অংশগ্রহণ নির্বাচন ব্যবস্থায় এক নতুন ইতিহাস তৈরি করল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category