বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) অসত্য তথ্য প্রদর্শনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুদকের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদের জন্য জমা দেওয়া সিভিতে পুতুল তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ‘অনারারি স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য যুক্ত করেছিলেন। তবে কমিশনের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে সেই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে প্রমাণিত হয়েছে।
দুদকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, জীবনবৃত্তান্তে উক্ত ভুয়া অভিজ্ঞতার বিষয়টি ব্যবহার করেই পুতুল আন্তর্জাতিক এই মর্যাদাপূর্ণ পদে নিয়োগ লাভ করার পথ সুগম করেন। ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি এই অপতৎপরতা চালিয়েছিলেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উক্ত নিয়োগপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিভিতে উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক নথি প্রস্তুত এবং যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনুচিত প্রভাব খাটানো হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফাইল ওপেন করা এবং নিরপেক্ষ তথ্য যাচাই করার সাধারণ সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করে সরাসরি চাপ প্রয়োগ করা হয়।
পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, জাতিসংঘের নির্দিষ্ট কার্যালয়সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করা হয়। মূলত এই সমস্ত ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পুতুলকে উক্ত আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়।
দুদকের তদন্তে আরও প্রতীয়মান হয়েছে যে, জীবনবৃত্তান্তে জালিয়াতি বা মিথ্যা তথ্য সন্নিবেশিত করার পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও সুনাম দারুণভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন। এসব তথ্য-প্রমাণ ও অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
উল্লেখ্য, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বিগত ২০২৫ সালের ২০ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত কার্যক্রম শেষে অবশেষে মামলাটিতে আদালতে চার্জশিট দাখিলের সবুজ সংকেত প্রদান করা হলো।