রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ন
Title :
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিভিতে মিথ্যা তথ্য, পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান রিয়াদের ৯৯ তলা বিশিষ্ট কিংডম সেন্টার বন্ধ ঘোষণা: সৌদিতে হুথিদের হামলা অস্ত্র হাতে ইশরাকের ছবি নিয়ে বিতর্ক, যা বললেন তিনি মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ১৮০০ পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে ফিফা সভাপতির সঙ্গে বাফুফের বৈঠক নিয়ম বহির্ভূত যা আছে, সবই সরকার পরিচ্ছন্ন করবে: কুমিল্লায় কৃষিমন্ত্রী ভারত-চীনের ওপর ১০০% শুল্ক আপাতত স্থগিত করলেন ট্রাম্প তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বলেই ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছে সাধারণ মানুষ: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

অস্ত্র হাতে ইশরাকের ছবি নিয়ে বিতর্ক, যা বললেন তিনি

  • Update Time : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬ Time View

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে আত্মরক্ষার জন্য নিজের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এ ঘটনায় কয়েকটি গণমাধ্যম অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ প্রকাশ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান ইশরাক হোসেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যের ভিডিও, ছবির কার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম দিয়ে পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি। এতে তাঁর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে।

মাদক পরিস্থিতি ও আগের উদ্যোগের বিষয়ে বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি।

তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান চলাচলের পথে পরিণত হয়। গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন।

জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছাকাছি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র দিলেও তা এখনো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

ইশরাক হোসেন বলেন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি ১৭ অক্টোবর ওই এলাকায় যান।

আত্মরক্ষায় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার কারণ ব্যাখ্যা করে বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি হইচই করে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পর অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দেওয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং তা প্রদর্শন করা হয়েছে আত্মরক্ষার স্বার্থে।

পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়।

ইশরাক হোসেনের দাবি, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ছয়জন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ মুষ্টিমেয় কয়েকটি গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব সংবাদে অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়গুলো এড়িয়ে শুধু ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’ দৃশ্যটি চটকদার শিরোনামে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের উপস্থাপন স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী। সংবাদের সত্যতা যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটসহ তা প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মাদক নির্মূলে সরকারের শূন্য সহনশীলতার নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘মাদকের আস্তানা সম্পূর্ণরূপে উপড়ে ফেলা এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা জনগণের নিকট আমার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একটি ঘটনাকে খণ্ডিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না।’

জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category