দেশীয় উদ্ভাবনকে গবেষণাগারের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব উৎপাদনে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এসব উদ্ভাবনের সঙ্গে বাজারের সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’।
আজ সকালে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, মেলায় সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন। প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও নতুন নতুন ধারণা তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, প্রাথমিক অর্থায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে অনেক উদ্ভাবনই বাণিজ্যিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি উদ্ভাবকদের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং তাদের পণ্য ও প্রযুক্তির বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করাও মেলার অন্যতম লক্ষ্য।
মেলার দ্বিতীয় দিন আগামীকাল স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এ অধিবেশনে কম খরচে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। এ সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
মেলায় কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর (ডিপিডিটি) এবং ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই)। কারিগরি অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।