ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে নিতে পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে। এ কারণে দীর্ঘ অপেক্ষা না করে ভোলাতেই গ্যাস ব্যবহার করে শিল্প-কারখানা, সার কারখানা ও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
বুধবার জাতীয় সংসদে মহিলা আসন-১৭-এর সদস্য সুলতানা আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় সাত বছর সময় লাগবে। তাই বিকল্প ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভোলায় বড় পরিসরে শিল্প-কারখানা স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অনেক উদ্যোক্তাও সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পায়ন হলে ভোলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জেলার অর্থনীতির পরিধিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
ভোলার গ্যাস জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সেখানে একটি বড় সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদি এ পরিকল্পনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভোলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক সম্পদ, মানুষের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে জেলার জন্য সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
সংসদে জানানো হয়, ভোলায় ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি নতুন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাসের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও জানান, সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ভোলা ও এর আশপাশের দ্বীপগুলোকে ব্লু ইকোনমির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, চরাঞ্চলে সমন্বিত কৃষি, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ভোলার গ্যাস, কৃষি ও মৎস্যসম্পদ এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।