বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
Title :
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের সূচিতে ১০ কর্মসূচি: মাহদী আমিন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী মক্কা হামলার অভিযোগ ঘিরে হুতিদের ‘সন্ত্রাসী’ বললেন সৌদি বাদশাহ জাতিসংঘের ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয়: তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করলে বাতিল হবে রুট পারমিট: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনগণের সহনশীলতা চাইলেন তথ্য উপদেষ্টা সরকারি হাসপাতালের পাশে নতুন ক্লিনিক অনুমোদন বন্ধ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি: দূরপাল্লার বাস ভাড়া কিলোমিটারে কত বাড়ছে? জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময়সূচি প্রকাশ

রাজস্ব নিয়ে জনগনের বিভ্রান্তি কাটানোই বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪২ Time View

অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬’। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে দেশের করনীতি কাঠামোর পর্যালোচনা ও সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং করদাতাদের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আলোচনায় কর ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত বাড়ানো, কর ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল ও অনলাইনভিত্তিক করা, কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার কৌশল নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দক্ষ রাজস্ব ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না দিয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। কর প্রদানকে সাধারণ মানুষের কাছে জটিল বিষয় হিসেবে উপস্থাপন না করে নাগরিক দায়িত্ব ও জাতীয় উন্নয়নে অংশগ্রহণের সুযোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, সততা ও নাগরিকবান্ধব মনোভাব নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও পরামর্শ শোনেন। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিল্পের বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রত্যক্ষ কর আহরণের পরিমাণ বাড়ানো জরুরি। অপ্রত্যক্ষ করের তুলনায় প্রত্যক্ষ করের ওপর বেশি গুরুত্ব দিলে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট ঘাটতি কমানো এবং আর্থিক খাতকে আরও সুসংহত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ২০২৬ সালের এ সম্মেলন দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। উদ্ভাবনী পরিকল্পনা, কর প্রদানে ডিজিটাল ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শিল্পপতি ও করদাতাদের মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনায় রাজস্বসংক্রান্ত নীতিমালা আরও সহজ করার দাবি জানান। আলোচনায় উঠে আসা যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশন ও কর্মশালায় করনীতি সংস্কার, শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর আদায় প্রক্রিয়া কাগজবিহীন করা এবং রাজস্বনীতি প্রণয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

আয়োজকরা আশা করছেন, রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬-এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও কর ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সংস্কারের পথ আরও সুস্পষ্ট হবে। এতে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category