মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে ফিলিস্তিনিদের উল্লাস

  • Update Time : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ Time View

স্পেনের ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের পর ফিলিস্তিনের গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে শুরু হয়েছে আনন্দ-উল্লাস। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী পর্দায় খেলা দেখেন হাজারো মানুষ। অনেকেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে ম্যাচ উপভোগ করেন। স্পেনের শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তায় নেমে উদযাপনে মেতে ওঠেন সমর্থকেরা।

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযানে ক্ষতবিক্ষত গাজার নানা স্থানে মানুষ একত্রিত হয়ে স্পেনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন করেন। ধ্বংসস্তূপের মাঝেও স্পেনের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায় ফিলিস্তিনিদের। বিজয়ের আনন্দে তারা স্পেনের পতাকা উড়িয়ে উৎসব করেন।

স্পেন ও ফিলিস্তিনের সম্পর্কের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাও রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৮ মে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় স্পেন। গাজার মানুষের কাছে এ সিদ্ধান্ত ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর কিছুদিন পর ইউরোজয়ী স্পেন দলের তারকা লামিন ইয়ামালের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা দেখা যাওয়াও দুই পক্ষের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে আলোচনায় আসে।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দিনের আলোয় যখন স্পেন বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে, তখন গাজায় গভীর রাত। তবে সময়ের পার্থক্য উৎসবের আমেজে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। ভাঙাচোরা বাড়ি, বিধ্বস্ত সড়ক কিংবা খোলা জায়গায় জড়ো হয়ে মানুষ নেচে-গেয়ে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

পুরো বিশ্বকাপজুড়েই গাজার মানুষ নিজেদের ঘনিষ্ঠ ও মিত্র দেশগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে। প্রতিবেশী মিশর থেকে শুরু করে বন্ধুপ্রতীম স্পেন-সব দলের জন্যই ছিল আলাদা উচ্ছ্বাস। যদিও লিওনেল মেসি ফিলিস্তিনে জনপ্রিয়, তবুও আর্জেন্টিনা ও ইজরায়েলের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে অনেক ফিলিস্তিনি সমর্থক এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের পক্ষেই আবেগ প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তরেসের একমাত্র গোলে স্পেনের শিরোপা জয় যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষের মুখে এনে দেয় সাময়িক হলেও স্বস্তি ও আনন্দের হাসি।

বিশ্বকাপ শেষে স্পেন দল দেশে ফিরলেও গাজার মানুষের সামনে অপেক্ষা করছে তাদের প্রতিদিনের কঠিন বাস্তবতা। তবুও বিশ্বকাপজয়ের এই স্মরণীয় রাত এবং ধ্বংসস্তূপের মাঝেও একসঙ্গে উদযাপনের মুহূর্ত দীর্ঘদিন মনে রাখবেন ফিলিস্তিনিরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category