পবিত্র নগরী মক্কায় হুথিদের ড্রোন হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, মক্কার আকাশসীমায় পৌঁছানোর আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে।
সৌদি জোটের দাবি, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি নিক্ষেপ করা হয়। তবে মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ভূপাতিত করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে শেহবাজ শরিফ বলেন, “আমি পবিত্র মক্কা শরিফে কাপুরুষোচিত ও জঘন্য ড্রোন হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ঘটনায় পাকিস্তান মর্মাহত এবং বিচলিত।”
তিনি আরও বলেন, “ভাতৃপ্রতীম দেশ সৌদি আরবের ভৌগলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের লড়াইয়ে পাকিস্তান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তার পাশে আছে।”
তবে মক্কা নগরীতে ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের এ অভিযোগকে ‘ঘৃণ্য মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে গোষ্ঠীটি।
হুথিদের পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য হিজাম আল-আসাদ বলেন, “মক্কায় হামলার দাবি একটি ঘৃণ্য মিথ্যা। যা এরআগেও দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এখন এমন দাবি আর কাউকে ভুল বোঝায় না।”
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই হুথিরা মক্কায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছিল। এরপর মঙ্গলবার রাতে আবারও ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে আঘাত হানার আগেই সেটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি সৌদি জোটের।
এ বিষয়ে সৌদি জোট বলেছে, “ড্রোন হামলার ঘটনা মক্কায় দ্বিতীয়বারের মতো সন্ত্রাসী হামলার অপচেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়।”
সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে। ওই বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে। রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান।
তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে ২০১৫ সাল থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে হুথিরা। এরপর প্রায় চার বছর পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।