দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই নারীও রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাটিকে ‘নিষ্ঠুর’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, নাবাতিয়ে জেলার আল-আনসার, আলি আল-তাহের মালভূমি, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা ও দেইর আল-জাহরানি এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে আবাসিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক পরিবার হতাহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-আনসার এলাকায় তিন শিশুসহ সাতজন এবং দেইর এজ-জাহরানি এলাকায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, এ হামলা লেবাননের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তারও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং দেশটির জনগণের প্রতিরোধের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর আগের হামলায় তাদের তিন সেনা আহত হওয়ার পর পাল্টা সামরিক অভিযান হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ ইচ্ছাকৃতভাবে সামরিক স্থাপনায় সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
এদিকে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পরবর্তী আলোচনার আগেই ইসরায়েল এই হামলার মাধ্যমে আগ্রাসী মনোভাবের বার্তা দিচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।