ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক বিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় শীর্ষ নেতারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানান। দাবি মানা না হলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এক দফা আন্দোলনে যাওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি আ স ম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই পথসভা শেষে লংমার্চ রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
দাবি না মানলে ১ দফার হুঁশিয়ারি
পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের এই লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার দাবিতে, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে। আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে নামিনি, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।”
সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ বলেছিল, কিন্তু সরকার তা অগ্রাহ্য করে জনগণকে অপমানিত করেছে। জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন এই বাংলার মাটিতেই হবে। আজকে ৮ দফা দাবিতে নেমেছি, জনগণের প্রয়োজনে তা যেকোনো সময় ১ দফায় পরিণত হতে পারে।”
কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, “আমরা সুশাসন, চাঁদাবাজমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। বর্তমান সরকার দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পারছে না। আমরা বারবার ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছি, সংস্কার যদি না দেন, আমরা এক দফায় যাবো, সেটা হলো সরকারের বিদায়।”
গণরায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি
আল্লামা মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গণভোটের গণরায় কার্যকর করা ছাড়া বর্তমান সরকারের আর ভিন্ন কোনো বিকল্প পথ নেই। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল; তারেক জিয়ার সরকারকেও গণভোটের রায় কার্যকর করেই ক্ষমতা ছাড়তে হবে।” তিনি গুম-খুন হওয়া শহীদদের বিচার দাবি করে বলেন, তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে সরকারের লুকোচুরি আর বরদাশত করা হবে না।
সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ক্ষমতাসীন দল গণভোটের গণরায় না মেনে জনগণের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তিস্তাপাড়ের মানুষের মুক্তির জন্য অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা এই লংমার্চ সফল করব।”
ফ্যাসিবাদ ও লুটপাটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ
মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “বর্তমান সরকার যাতে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী হতে না পারে, লুটপাট ও সম্পদ পাচার করতে না পারে, সেজন্য আমাদের লড়াই চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। আমরা আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওসমান হাদীর মতো লড়াই চালিয়ে যাবো।”
১১ দলীয় ঐক্যের ৭ দফা দাবি
লংমার্চ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়:
১. গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন
২. জুলাই গণহত্যার বিচার
৩. বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন
৪. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি
৬. সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ
৭. দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর ও ঢাকা উত্তর অঞ্চলের পরিচালক আব্দুর রব, লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, গাজীপুর জেলা আমীর ড. জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর সিটি মেয়র পদপ্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, নায়েবে আমীর মো. খায়রুল হাসান, এনসিপি নেতা আলী নাসের খান, সাবেক সচিব শাহ আলম বখশী, খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি মুফতি ফারুক আহমেদ রোমানী প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহানগর নায়েবে আমীর মুহাম্মদ হোসেন আলী, জেলা জামায়াত সেক্রেটারি শফি উদ্দীন, মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি ইসমাইল পাঠানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।