প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। তিনি বলেছেন, ‘তারেক রহমান নিজেই সবাইকে শেখাচ্ছেন, কীভাবে জনগণের জন্য কাজ করতে হয় এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়। জনগণ আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিয়মের মধ্যে থেকে যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’
রোববার (০৮ নভেম্বর) বিকেলে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে স্থানীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, স্বাধীনতার পর মানুষ আশা করেছিল দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে ও বাক্স্বাধীনতা ফিরে পাবে। কিন্তু তৎকালীন সময়ে মানুষের বাক্স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটিয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী টুকু আরও বলেন, ‘ডিসেম্বরে একটি দলের নেত্রী আসবেন বলে শোনা যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর অনেক গণআন্দোলন হয়েছে। তবে এই প্রথম কোনো আন্দোলনে তাদের নেতাকর্মীরা যেভাবে ছিলেন, সেভাবেই ওপারে পালিয়ে গেছেন। এপারে আসতে হলে তাদের ফিটফাট হয়ে আসতে হবে, বিষয়টি এত সহজ নয়। গ্রামের ভাষায় যাকে ফাঁকা আওয়াজ বলে, তারা এখন তেমন আওয়াজ দিচ্ছে। এদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা কোনো ষড়যন্ত্র করার সুযোগ না পায়। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তিই ষড়যন্ত্রে সফল হতে পারবে না।’
নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে। কেউ মূল্যায়নের বাইরে থাকবেন না। তবে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পালন করতে হবে। কারও কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দল যেন বদনামের শিকার না হয় এবং জনগণ যেন কোনো দুর্ভোগে না পড়ে, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তাদের সেবা ও এলাকার উন্নয়নের জন্য। জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। নির্বাচনের আগেও আমি বলেছিলাম, টাঙ্গাইলে সর্বোচ্চ উন্নয়ন করব, ইনশাআল্লাহ। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। যে-ই এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন এবং সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব।