ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের কাছে লম্বক প্রণালিতে একটি ফেরিতে আগুন লাগার পর নিখোঁজ পাঁচ যাত্রীর সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকারীরা।
বুধবার ভোরে বালি থেকে লম্বক দ্বীপের উদ্দেশে যাওয়ার সময় ফেরিটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নৌবাহিনীর একটি জাহাজ, কাছাকাছি থাকা আরেকটি ফেরিসহ কয়েকটি নৌযান উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। তারা মোট ২১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে। এ সময় ১৯ বছর বয়সী এক ইন্দোনেশীয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লম্বক দ্বীপের মাতারাম অনুসন্ধান ও উদ্ধার দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের উদ্ধার অভিযান মূলত নিখোঁজ পাঁচ যাত্রীর সন্ধানকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।
অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা মুহাম্মাদ হারিয়াদি বলেন, নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে সরাসরি তল্লাশির পাশাপাশি লম্বক প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজকেও সতর্ক করা হয়েছে। কোনো জাহাজের কর্মী বা যাত্রী নিখোঁজ ব্যক্তিদের দেখতে পেলে কিংবা কোনো ধরনের তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের বর্ণনায় দুর্ঘটনার ভয়াবহতার চিত্রও উঠে এসেছে। লম্বক দ্বীপের লেম্বারে সাংবাদিকদের ২৫ বছর বয়সী কিকি ওকতা প্রাদিকা জানান, তিনি কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। পরে উদ্ধারের জন্য তাদের কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
আরেক যাত্রী ৪৫ বছর বয়সী সুতৃষ্ণা জানান, ফেরি থেকে লাইফবোট নামানোর সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জীবন রক্ষাকারী জ্যাকেট সংগ্রহ করতে ছোটাছুটি শুরু করেন।
তিনি বলেন, সাগরে বড় বড় ঢেউ থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় ঢেউয়ের উচ্চতা আরও বেড়ে যায়।
ইন্দোনেশিয়ায় নৌপথে দুর্ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটির মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পর্যটনের একটি বড় অংশ নৌযানের ওপর নির্ভরশীল। নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অনিশ্চিত আবহাওয়াকে দেশটিতে নৌদুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এর আগেও দেশটিতে একাধিক নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে জাভা দ্বীপের কাছে একটি ফেরিতে আগুন লেগে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এর আগে গত মাসে সুলাওয়েসির দক্ষিণে সেলেয়ার দ্বীপের কাছে ৭০ জনের বেশি যাত্রী বহনকারী একটি ফেরি ডুবে যায়। ওই ঘটনায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও ১৪ জন নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাদের সন্ধানে পরিচালিত উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়।