ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ক্ষমতায় দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী জাকার্তা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিক্ষোভ মোকাবিলায় রাজধানীতে ৯ হাজার ৫০৫ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
জাকার্তা পুলিশের মুখপাত্র বুদি হারমানতো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের আয়োজন করেছেন। এ কারণে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক দাবানল ও শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতনের প্রতিবাদে আন্দোলন করছেন। তাদের মতে, শেয়ারবাজারের পতন এবং দেশটির মুদ্রা রুপিয়ার দুর্বল হয়ে পড়া জাতীয় অর্থনীতির ভঙ্গুরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস মঙ্গলবার জাকার্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভে ব্যানার টাঙিয়েছে। এতে লেখা ছিল, ‘জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করুন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমান।’
২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন সাবেক জেনারেল প্রাবোও সুবিয়ান্তো। নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেলেও তার উচ্চাভিলাষী জনতুষ্টিবাদী কর্মসূচির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের জনমত জরিপ অনুযায়ী, গত বছরের শেষ দিক থেকে প্রাবোওর প্রতি জনসমর্থন ধারাবাহিকভাবে কমেছে। চলতি মাসে তার প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশে, যা সর্বনিম্ন। অথচ গত বছরের নভেম্বরে তার প্রতি জনসমর্থন ছিল ৮১ দশমিক ২ শতাংশ।
ইন্দোনেশিয়ায় সর্বশেষ বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল গত আগস্টে। ওই সময় শত শত মানুষকে আটক করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালে এক মোটরসাইকেল ট্যাক্সিচালককে পুলিশ হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই আন্দোলনে সংঘটিত সহিংসতায় বেশ কয়েকজন নিহত হন।
এর আগে এশিয়ার আরেক দেশ ভারতেও জেন-জি ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। চলতি বছরের মে মাসে মেডিকেল কলেজে ভর্তির পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম, বেকারত্ব ও সরকারের জবাবদিহির দাবিতে ছড়িয়ে পড়ে।
তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলন সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টানা বিক্ষোভের মুখে জুলাইয়ে পদত্যাগ করেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পরে অক্টোবরে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং এতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সুবিধা পেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।